MD BabU :
হুমায়ূন আহমেদ সাহেব হয়তো আমার এই বুক চেরা আর্তনাদ দেখেই লিখেছিলেন—পৃথিবীর সবচেয়ে তীব্র যন্ত্রণা হচ্ছে জীবিত মানুষ হারিয়ে ফেলা। মৃত্যু শোক দেয়, কিন্তু জীবন্ত বিচ্ছেদ দেয় এক অন্তহীন দহন।
কেউ মারা গেলে আমরা তাকে মাটি দিয়ে আসি, একটা সময় চোখের জল শুকিয়ে যায়। কিন্তু যখন প্রিয় মানুষটা জ্যান্ত অবস্থায় হারিয়ে যায়, তখন সে মাটি চাপা পড়ে না, বরং সে প্রতিদিন আমার জ্যান্ত কলিজার
ওপর দিয়ে হাইটা বেড়ায়। আমি জানি তুমি এই শহরের কোনো এক কোণে এখন অন্য কারোর কপালে চুমু আঁকছো, অন্য কারোর মায়াবী হাসির কারণ হচ্ছো—আর আমি? আমি এখানে তোমার স্মৃতিগুলোর শ্মশান পাহারা দিচ্ছি। স্রষ্টার দেওয়া এই দুইটা চক্ষু দিয়া আমি সবচেয়ে
বেশি যা দেখেছি, তা আমার এই জ্যান্ত সর্বনাশ! নিজের সবচেয়ে আপন মানুষটাকে অন্যের হতে দেখার চেয়ে বড় মৃত্যু আর কী হতে পারে? তোমার ভালোবাসার অভিনয়ে আমি এতোটাই বিভোর ছিলাম যে, আমি বুঝতেই পারিনি ওই শ্রেষ্ঠ মুহূর্তগুলো ছিল আসলে আমার কলিজা ছিঁড়ে
নেওয়ার একটা চূড়ান্ত প্রস্তুতি মাত্র। যাকে আমি আমার নিশ্বাসের চেয়েও বেশি আপন ভাবতাম, সেই মানুষটা যখন স্বার্থের টানে এক নিমেষে অচেনা হয়ে গেল—তখন আমি প্রথম অনুভব করলাম জীবিত মানুষ হারানোর বীভৎসতা। তুমি বেঁচে আছো, তুমি হাসছো, তোমার শরীরে
এখনও সেই চেনা ঘ্রাণটা আছে—অথচ আমার জন্য তুমি নেই। এই যে একটা শূন্যতা, এই যে একটা জ্যান্ত হাহাকার-এটা কোনো ওষুধে সারে না। মানুষ অদ্ভুত, পৃথিবীতে একা এসেও একাকীত্ব মেনে নিতে পারে না বলেই তোমার মতো একেকটা মানুষের নিপুণ অভিনয়ের ফাঁদে নিজের সবটুকু সঁপে দেয়। আর তার প্রতিদান? তার প্রতিদান হলো—চেনা মানুষের এক ভয়াবহ অচেনা রূপ দেখা!
সবচেয়ে ভয়ংকর দৃশ্য হলো চেনা মানুষের সেই বীভৎস অচেনা রূপ, যা আমি তোমার মাঝে দেখেছি। তোমার সেই গলার স্বর, সেই স্পর্শ—সবই এই পৃথিবীতে জ্যান্ত আছে, কেবল আমার জন্য তা আজ নিষিদ্ধ এক জাহান্নাম। মুখে হাসি রাখি বলে সবাই ভাবে আমি বোধহয় অনেক
ভালো আছি, কিন্তু কেউ আমার বুকের ভেতর দাউদাউ করে জ্বলা ওই স্মৃতির চিতাটা দেখতে পায় না। আমার এই হাসিটা এখন আমার যন্ত্রণাকে আড়াল করার এক বিষাক্ত মুখোশ মাত্র।
2026-06-07 05:24:45