@mohammadakash0011: ৮২ "মা তুমি ভুল বুঝতেছ। কুহু ইচ্ছে করেই হয়তো এমন বিহেভ করেছে। ও মোটেও তেমন মেয়ে না ট্রাস্ট মি!" " ও কেমন মেয়ে দেখা হয়েছে আমার। ও সামনে এক পেছনে আরেক। আমি নিজে দেখেছি সবার আড়ালে কেমন আচারণ করেছে।তুই ওর প্রেমে অন্ধ হয়ে গেছিস তাই দেখতে পাচ্ছিস না। দেখ বাবা বিয়েটা ছেলেখেলা না। অনেক ভেবেচিন্তে জীবনসঙ্গী চুজ করতে হয়।এখানে আমার মন মানতেছে না..." ইশরাক মায়ের হাত ধরে বললো," মা তোমার কি মনে হয় তোমার ছেলে এতোটাই কাঁচা? ৩২ বছরের জীবনে মানুষ চেনার একটু জ্ঞান ও কি আমার হয়নি? আমি কি এই পর্যন্ত কোনো মেয়ের কথা তোমাকে বলেছি?" শাহিনা মাথা নেড়ে বলল," আব্বুরে তোর চোখে এখন ভালোবাসার পট্টি বাঁধা, তুই এখন আমার কথা বুঝবি না। তোর যা ইচ্ছে কর তবে এই বিয়েতে আমি মন থেকে মত দিচ্ছি না। গরীবের নম্র ভদ্র মেয়ে ধনীর অহংকারী মেয়ের চেয়ে হাজারগুণ ভালো।" ইশরাক হতাশ হয়ে মায়ের যাওয়ার পানে চেয়ে রইলো। আর মনে মনে বলল,"তুমি কেন ঐসব করতে গেলে কুহু! আমাদের বাড়া ভাতে ছাই না ফেললে কি তোমার হতো না?" আরওয়া দাদীকে ফোন করে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদতে লাগলো। করিমুন্নেসা নাতনিকে স্বাভাবিক হতে সময় দিলেন, কান্নার বেগ কমে আসতেই তিনি নরম গলায় বললেন, "ও বু কি হইছে?" "দাদীজান আমার কিছু ভালো লাগছেনা। আমি উনাকে কষ্ট দিয়েছি দাদীজান, উনি আমার উপর রেগে আছেন হয়তো।" "ঘটনা কী হুনি আগে?" আরওয়া পুরো ঘটনা দাদীকে খুলে বলল। করিমুন্নেসা সবটা শুনে বললেন, "আই তো ইয়ানে তোর দোষ দেহিয়ের না। পাঁচজন লই সংসার কইরতে গেলে কতদিক বিবেচনা কইরতে অয় হেতে না বুইজলে কি করন আছে? হেতের ভাবসাব হুনি তো মনে কর হেতে বিবাহবার্ষিকী পালন কইরবার লাই বুলি তোরে সাথে নিতে চাইছিল।" "হুম উনি অনেক প্ল্যান করেছিল, আমিই গাধা বুঝিনাই।" "মন বেজার করিচ্চা, দাদীর কথা হুন। তুই এক কাম কর তুই চিটাং যা গই। হেতের সামনে যাই খাড়াইলেই দেইখবি সব গোস্সা ফানি হই গেছে। যাওনের সময় হেতের লাই কিছু কিনি লইস ক্যান? আর কান্দিচ্চা, তোর হোড়িরে কই চিটাং যাওয়ার ব্যবস্থা কর।" "আমি একা এতো দূর কীভাবে যাবো?" "আই গাড়ি ফাডাইয়ের, সালাউদ্দীন তোরে দি আইবো।" আরওয়া চোখ মুছে বলল," আল্লাহ তোমারে অনেক দিন বাঁচাই রাখুক। তুমি আছ বলেই আমার সমস্যার সমাধান সহজেই হয়ে যায়।" করিমুন্নেসা হেসে বললেন,"মসিবতে অধৈর্য হবি না, মাথা ঠান্ডা করি আরে ভাইববি। দেখবি আমনেই সমাধান মাথায় আই যাইবো।" "হু" আরওয়া শাশুড়ির থেকে অনুমতি নিতে গেলে রোকেয়া শুরুতে না করতে চাইলেও ওর চোখমুখ দেখে রাজী হয়ে গেলেন। আরওয়া শাশুড়ির অনুমতি পেয়ে দ্রুত ব্যাগপত্র গোছাতে শুরু করলো। । পাপিয়া অফিস থেকে ফিরে নিজের রুমে শুয়ে পড়লো। আজ তার শরীর একদম ভালো নেই। তাই সে চোখবন্ধ করে এক কাত হয়ে শুয়ে আছে। রোকেয়া মেয়ের জন্য ফলের জুস এনে তার শিয়রে বসলেন। মাথায় আলতো হাতে বিলি কেটে বললেন, "শরীর খারাপ লাগছে?" "আমি ঠিক আছি আম্মু। চিন্তা করোনা।" "আরওয়া আজকে চিটাগং গেছে। বুঝিনা ওদের কি হলো। ছেলেটা রাগ করে চলে গেছে, এখন বউ গেছে রাগ ভাঙ্গাতে। ওদের এসব ঝগড়াঝাটি কবে যে শেষ হবে!" পাপিয়া চোখ না খুলেই বললো,"যে সম্পর্কে ঝগড়া বেশি ঐটাতে ভালোবাসাও বেশি। ওদের সম্পর্ক এভাবেই গড়ে উঠেছে, দেখবে এটা লাস্টিং করবে অনেকদিন।" "কিন্তু উল্টোটা হয় যদি! বেশি ঝগড়া করলে মনে তিক্ততা আসে, একে অপরের প্রতি ঘৃণা জন্মায়। ওতেই আমার ভয়।" পাপিয়া উঠে বসলো। মায়ের গালে হাত রেখে বলল, "সব ঝগড়ায় যেমন ভালোবাসা বাড়েনা, তেমনি সব ঝগড়ায় ক্ষোভ ও জন্মায় না।ওদের এই টকঝাল রাগ অভিমান ওদের সম্পর্ককে মজবুত করবে, চিড় ধরাবেনা ইনশাআল্লাহ!" পাপিয়া মনে মনে বলল, "আমার সঙ্গে রিজভীর কত ঝগড়া হয়েছিল, কিন্তু ব্যাড এফেক্ট তো পড়েনি। বরং বন্ধুত্ব মজবুত হয়েছে। আশা করি ভাইয়া ভাবিরও তেমনি হবে।" NEXT...
নিরুপমার নীল কান্না
Region: BD
Sunday 15 February 2026 13:59:51 GMT
Music
Download
Comments
Md Milonmia7468 :
🥰🥰🥰
2026-02-17 09:07:37
0
🤍🖤 :
🥰🥰🥰
2026-02-15 15:00:02
0
To see more videos from user @mohammadakash0011, please go to the Tikwm
homepage.