@jk_ff_writer_7: ❖লাফাঙ্গা জাংকুক সিকদার࿐ পর্ব ৫৯ :—বাকিরাও নেমে যায়! Yn গাড়ি থেকে নেমে চোখ তুলে মোহিত বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকায় বাড়ির উঁচু গেটের দিকে! ভারী লোহার গেটটা অনেক বছরের পুড়নো যায়গায় যায়গায় ঝংকার ধরেছে! রঙ উঠে ধাতব খসখসে ভাব ফুটে উঠেছে দেখতে খারাপ নয়! বরং এক ধরনের পুড়নো সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে প্রতিটি ইট আর লোহার গায়ে! লালচে ইটের দেয়াল গুলোতে বয়সের ছাপ স্পষ্ট! দেওয়ালের গায়ে শ্যাওলার সাথে হালকা ফাটলও ধরেছে তারপরও এক অদ্ভুত গাম্ভীর্য আর আভিজাত্য ছড়িয়ে আছে পুরো যায়গা জুড়ে! গাড়ির হর্নের শব্দে গেটের মধ্যেখানের ভারী পাল্লাটা কর্কশ শব্দে খুলে তড়িঘড়ি করে বের হয়ে আসেন আম্বিয়া সিকদারের বড় ভাইজান ইমরান মজুমদার ওনাড় চোখে মুখে স্পষ্ট উত্তেজনা আর আনন্দের ছাপ! বোনকে দেখা মাত্রই এক গাল হেসে আম্বিয়াকে এক হাতে জড়িয়ে ধরেন! সেই আলিঙ্গনে ছিল বহুদিনের ঝমে থাকা ভালোবাসা! আপন জনকে ফিরে পাওয়ার উষ্ণতা আম্বিয়া সিকদারও খুশি মনে ভাইকে জড়িয়ে ধরেন আপন ভঙ্গীতে! আলিয়া এগিয়ে এসে মামা শশুরকে ভদ্রভাবে সালাম জানায়! Yn কোলে আহিয়াকে নিয়ে একটু নরম সংযত ভঙ্গীতে সামনে এগিয়ে এসে সম্মান জানিয়ে সালাম করে ইমরান মজুমদার ঠিক তখন Yn কে লক্ষ্য করেন! আম্বিয়াকে ছেড়ে Yn-র দিকে এক নজর তাকিয়ে বোনের দিকে প্রশ্নবোধক চাহনি তাক করতে আম্বিয়া জোরপূর্বক হেসে বলেন -ভাইজান আমাদের jungkook-র বউ..!! তিনি তখন হাসি মুখে সালাম গ্রহণ করেন! Yn আম্বিয়ার কথায় খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে! লজ্জায় মাথা নিচু করে নেয়! ইমরান মজুমদার তখন ব্যাগপএ নিতে নিতে তাড়া দিয়ে বলেন -বউদেরকে ভেতরে নিয়ে যা আম্বিয়া..!! আলিয়া নরম করে Yn-র হাতটা ধরল! হালকা করে মাথা নাড়িয়ে ভেতরে যাওয়ার ইশারা করে! Yn কিছুটা ধীর পায়ে চারপাশে তাকাতে তাকাতে আলিয়ার সাথে ভেতরে পা বাড়ায়!পেছন পেছন টিয়াও ভেতরে ঢুকতেই যেন অন্য এক জগতে প্রবেশ করার অনুভূতি জাগে! বিশাল পুড়নো ইটের বাড়িটা তার প্রাচীন গাম্ভীর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে! দেয়ালের প্রতিটি ইটে বয়সের ছাপ! তারপরও হাড়ায়নি তার সৌন্দর্য! উঠোনটা প্রশস্ত! খোলা আকাশের নিচে ছড়িয়ে আছে এক গ্রাম্য শান্তি বাড়ির দু'পাশে দুটো টিনের ঘর! ইটের বাড়ির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সে গুলোতেও রয়েছে ব্যবহারিক জীবনের ছাপ! উঠোনের কোথাও শুকোতে দেওয়া কাপড়! আবারও কোথাও মাটির হাঁড়ি পাতিল গুছিয়ে রেখেছে পুড়নো ইটের দেয়ালের ফাঁকে ফাঁকে জড়িয়ে আছে অপরাজিতার লতানো গাছ! সবুজ পাতার ভিড়ে ফুটে থাকা নীলচে বেগুনি ফুল গুলো যেন এই পুড়নো বাড়ির সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তুলেছে বাতাসে হালকা দোল খেয়ে লতা গুলো দেয়াল জুড়ে ছড়িয়ে আছে! মাটির সোঁদা গন্ধ হালকা বাতাসের স্পর্শ আর চারপাশের নিস্তব্ধতা সব মিলিয়ে যাগটা বেশ সুন্দর! Yn মুগ্ধ হয়ে পুরো দৃশ্যটা দেখলো এতক্ষণ! আগে কখনো এরকম গ্রামের বাড়ি আসেনি! তাদের আত্মীয়দের মধ্যে কেউই গ্রামে থাকে না! আজ প্রথম গ্রামের সাথে সাক্ষাৎ তার! তাই মনের মধ্যে অফুরন্ত ভালো লাগা কাজ করছে তাদের আগমনে ভেতর থেকে ইমরান মজুমদারের স্ত্রী আয়শা বেগম ছুটে আসলেন! ননদকে দেখে খুশিতে জড়িয়ে ধরলেন! তিনার পেছন পেছন এসে দাঁড়িয়েছে বড় মেয়ে নুপুর এবং ছোট মেয়ে সোনালী! ফুপিকে দেখে তাদের চোখেও খুশির ঝকল! আলিয়া হাসি মুখে নুপুরের দিকে তাকাতে নুপুর হাসি মুখে বলে -কেমন আছো ভাবি..? -ভালো তুমি..? -আমিও ভালো আছি..!! বলতে বলতে Yn-র দিকে নজর যায়! এবং আলিয়াকে মৃদু স্বরে প্রশ্ন করে -ওনি কে ভাবি..? আলিয়া বলার আগেই আহিয়া Yn-র কোলে নড়েচড়ে গলা জড়িয়ে ঘার বাকিয়ে বলে উঠে -আমাল ছোত তাম্মাম..!! আলিয়া শব্দ করে হেসে উঠলো! সোনালী আহিয়াকে টেনে নিজের কাছে নিয়ে নিলো! আহিয়া যেতে চায়নি! নুপুর বুঝেনি! টিয়া বলে দেয় -jungkook ভাইয়ের বউ..!! Yn লজ্জায় নুয়ে রয়! ইসস বার বার বলছে jungkook-র বউ jungkook-র বউ! দূর! নুপুরের সাথে সাথে আয়শা বেগমও জানলেন! তাই তিনি হাসি মুখে নুপুরকে বললেন -নুপুর নতুন বউকে ঘরে নিয়ে যা..!! নুপুর দু'হাতে আলিয়াকে আর Yn কে টেনে ঘরে নিয়ে আসে! আম্বিয়া মুখটা গম্ভীর করে রাখেন! ঘরে প্রবেশ করতেই ঘরের মাঝখানে রাখা বেতের মুলি দিয়ে তৈরি করা সোফাটা প্রথমেই Yn-র চোখে পড়ে নিখুঁত হাতে বোনা সেই সোফার গায়ে হালকা বাদামি রঙের আভা! সোফার সাথে মিলিয়ে রাখা নরম কুশন গুলোতে ফুলেল নকশা! আধুনিকতার ছুঁয়া না থাকার মাঝেও এক টুকরো সৌখিনতা লুকিয়ে আছে পুড়নো জিনিসপএে সামনে ছোট কাঠের সেন্টার টেবিল! তাতে রাখা মাটির জগ এবং গ্লাস! পাশে একটি সুন্দর ধাঁচের ফুলদানি! দেয়ালে টাঙানো কিছু পুড়নো ছবি! ঘরের একপাশে বড় জানালাটা খোলা সেখান দিয়ে ভেতরে ঢুকছে হালকা বাতাস পর্দাটা দুলছে সাথে ভেসে আসছে অপরাজিতার হালকা সুবাস! সব মিলিয়ে ঘরটার ভেতরে এক ধরনের স্নিগ্ধ! উষ্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে! Yn ধীরে ধীরে চারপাশটা দেখে তার চোখে মুগ্ধতা! ঠোঁটে অজান্তেই হালকা হাসি! তার মধ্যে দক্ষিন পাশের রুমের ভেতর থেকে একটি 25 বছরের যুবক নুপুর বলে চেঁচিয়ে উঠে 1k cp