@jeonshreya1: দ্বিতীয় সূচনা part-31 রাজধানীর একটি অভিজাত রেস্ট্রুরেন্টের একটি গোল টেবিলে সবাই বসে আছে। রেস্টুরেন্টটি পার্কের নিকটে হওয়ায় tae সবাইকে এখানে নিয়ে এসেছে। বাহারী খাবার -দাবার পুরো টেবিল জুড়ে। yn কাঁচুমাচু হয়ে কোণার একটি চেয়ারে বসে আছে। পাশে বসে iu খেতে খেতে রাজ্যের গল্প জুড়ে দিয়েছে। ওর চেহারায় এখন কিছু কালাতিক্রম পূর্বের অবসাদের রেশ খুঁজে পাওয়া যাবেনা। ynর বরাবর সামনের চেয়ারে tae কপাল কুঁচকে বাম হাতে ফোনে খটাখট আঙুল চালিয়ে কি যেন করে চলেছে। আর মাঝে মাঝে ফোর্ক দিয়ে একটু একটু করে খাবার মুখে দিচ্ছে। তার কুঁকড়ে যাওয়া কপাল আর গম্ভীর আনন দেখে বোঝা যাচ্ছে বেশ সিরিয়াসলি কিছু একটা করছে ফোনে। yn একপলক সেদিকে তাকিয়ে সাথে সাথে চোখ সরিয়ে নিল। ওর কেমন জানি হাঁসফাঁস লাগছে। বুকটা হঠাৎ কেমন যেন ভার ভার লাগছে। এই রেস্টুরেন্টটার সাথে ওর অতীতের কিছু স্মৃতি জমে আছে। এই রেস্টুরেন্টটায় প্রায়শই jungkook ওদেরকে নিয়ে আসতো। ynর প্রতি ভালবাসা না থাকলেও jungkook সবসময় চেষ্টা করতো স্বামী আর পিতা নামক দায়িত্বটা অন্তত পালন করার। তাইতো উইকেন্ডে কোন পার্ক বা রেস্টুরেন্ট ynর দর্শনের সৌভাগ্য হতো। কখনো কখনো আবার ছেলের বায়নায়ও নিয়ে আসতো এখানে। ynকে কি আর বাসায় ফেলে আসা যায়? তাই হয়তো চক্ষুলজ্জায়ও নিয়ে আসতো এখানে। yn ওরনাটা টেনে নিজের কপালের ঘাম মুছলো। এই কনকনে ঠাণ্ডা আবহাওয়াতেও ও এত কেন ঘামছে বুঝতে পারছেনা। মনের মধ্যে কিছু একটা খচখচ করছে। যেন খারাপ কিছু একটা হতে চলেছে। নাকি সব ওর মনের ভ্রান্ত ধারণা? হয়তো jungkook নামক নেগেটিভিটি ওর মনকে প্রভাবিত করেছে! তাই এমন অদ্ভুত অশান্তি হচ্ছে মনে। ynর চোখ taeর পাশের চেয়ারে পড়লো। দৃশ্যটা দেখে কিছুটা অবাক হলো সে। পরক্ষণেই ওর ঠোঁট জুড়ে মৃদু হাসি খেলে গেল। চেয়ারে বসে বসে তুলি আর ঈশান খাবার খাচ্ছিল। তুলি চিকেনের পিসটা কাটতে পারছিল না দেখে ঈশান নাইফটা নিয়ে সুন্দর মতো কেটে কেটে তুলির প্লেটে দিচ্ছে। যদিও অপটু হাতে কাটতে তার বেশ বেগ পোহাতে হচ্ছে। তবুও এই ছোট্ট হাতেই দায়িত্ব নিয়ে তুলিকে সাহায্য করার সর্বাত্মক চেষ্টায় সে। ynর চোখ জুড়িয়ে যায় ছেলের পরোপকারীতায়। এতক্ষণের খারাপ লাগার রেশ উড়ে মনটা একটুখানি হালকা হয়। ও প্রার্থনা করে তার ছেলেটা যেন এই সুন্দর সুন্দর গুণগুলো সাথে নিয়ে একজন আদর্শ মানুষ হতে পারে। ynর জীবনে শত না পাওয়ার অভিযোগ যেন ঈশান পূর্ণ করে। বাচ্চাটা যেন বড় হয়ে তার মায়ের দায়িত্ব একা হাতে নেয়। এইতো এইটুকুই, ynর যে আর কিছুই চাওয়ার নেই এই জীবন থেকে। একসময় চেয়েছিল অনেককিছু। নিজের স্বপ্নপূরণ যখন করতে পারলনা। তখন চেয়েছিল থাক মন দিয়ে সংসার করবে। স্বামীর ভালবাসায় গোটা জীবন কাটিয়ে দেবে। কিন্তু কিছুই তো হলোনা! তাই এখন yn জীবন থেকে আর কিছুই চায়না। শুধু চায় তার বুকের ধনকে। যার মুখের দিকে তাকিয়ে ynর সব দীর্ঘশ্বাসের সমাপ্তি হয়। ঈশানের কষ্ট হচ্ছিল দেখে yn নিজে নাইফটা হাতে নেয়। দক্ষ হাতে চিকেনগুলো কেটে সসে ডুবিয়ে সেজুয়ান রাইসের সাথে নিজেই তুলির মুখের সামনে ধরে৷ তুলি ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। yn চোখের ইশারায় হা করতে বলে৷ তুলি ভয়ে ভয়ে পাশ ফিরে তাকিয়ে দেখে ঈশান শান্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আজ আর চোখে মুখে কোন হিংসাত্মক তৎপরতা নেই। তুলির ভীতি যেন দূর হলো। খুশি মনে মুহুর্তেই টুপ করে ynর বাড়িয়ে রাখা নলা মুখে পুরে নেয়৷ yn আপনমনে হাসে। এদের দুটিতে এসব দুষ্ট-মিষ্টি খুনসুটি গুলো ও বেশ উপভোগ করে। এটাও জানে দুজন পূর্ব শত্রু থেকে সদ্য বন্ধুত্ব পেতেছে। তাইতো চোখে চোখে নীরব ভাষায় এক জন আরেকজনের মন রক্ষা করে চলছে। iu মুগ্ধ চোখে সেই দৃশ্য অবলোকন করে। কিছু একটা ভেবে ওর ভেতরটা উচাটন করে। পরক্ষণেই নিজের আজন্মকাল গম্ভীর আর কপাল বেঁকে রাখা ভাইয়ের মুখখানা পরখ করে আকাশকুসুম চিন্তার ইতি টানে। এ জনমে হয়তো এই ছ্যাঁকাখোরকে বিয়ে করানো যাবেনা৷ কিন্তু একবার চেষ্টা করে দেখতে ক্ষতি কোথায়? হয়তো আল্লাহ চাইলে ও যা ভাবছে তা হলেও হতে পারে। ফোনে প্রয়োজনীয় কাজ শেষে tae পাশে তাকালো। তাকাতেই চমকে উঠলো। কুঁচকে রাখা কপালদ্বয়ের ভাজ নিমিষে মিলিয়ে গেল। নিজের মেয়েকে তার পরে এই প্রথমবার কাউকে এত যত্ন নিয়ে খাইয়ে দিতে দেখছে। তুলির একটা অদ্ভুত অভ্যাস আছে। ও tae ব্যতিত কারো হাতেই খেতে চায়না। এমনকি নিজের দিদুনের হাতেও না। সকালবেলা নিয়ম করে tae খাইয়ে দেয়। বাকি দুইবেলা প্রায়শই তুলি অপটু নিজের হাতেই খাবার খায়। tae বিমোহিত দৃষ্টিতে মেয়ের তৃপ্তি সহকারে খাওয়া দেখছিল। দৃশ্যটা তার কাছে এমন লাগলো যেন একজন মা তার সন্তানকে ভালোবেসে খাইয়ে দিচ্ছে। ynর খুবই লজ্জা লাগছিল। ওরা দুই ভাইবোন ওকে এভাবে দেখছে কেন আজব? tae মনে হয় বুঝলো ynর অস্বস্তি। তাইতো চোখ সরিয়ে আরেক পল পাশে চুপচাপ বসে পটু হাতে খাবার খাওয়া ঈশানকে দেখলো। অবাক হলো বাচ্চাটার আজ হঠাৎ শান্ত আচরণে। চলবে... cp হলে আরেকটা part দিবো। #unfrezzmyaccount #foryou #fanficti