কাব্য poetry :
না থাকার শূন্যতা মানুষ যখন মায়া দেখায়, তখন চোখ বুজে বিশ্বাস করাটা কি সত্যিই এত বড় অপরাধ?
আমি তো শুধু তোমার চোখে আমার ছোট্ট একটা পৃথিবী খুঁজেছিলাম। ভেবেছিলাম, এই হাতটাই হবে আমার সব দুঃখের নিরাপদ আশ্রয়।
আজ বুঝি-আমার প্রতিটি ভাঙা স্বপ্নের পেছনে তোমার নীরব সম্মতিই ছিল।
তুমি যখন ভালোবাসার কথা বলতে, তখন কি তোমার ঠোঁটে কোনো ছদ্মবেশ লেগে ছিল না?
নাকি আমি-ই অন্ধ ছিলাম?
আজ আমার জীবনের প্রতিটি বাঁকে যে তীব্র যন্ত্রণা, প্রতিটি নিঃশ্বাসে যে অব্যক্ত হাহাকার, প্রতিটি রাতের নির্ঘুম সাক্ষী-সবই তোমার দেওয়া সেই বিষাক্ত ভালোবাসার ফল।
তুমি এমন নিপুণভাবে আমার আত্মসম্মান, আমার হাসি, আমার বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা কেড়ে নিয়েছো যে আজ আয়নায় তাকালে নিজেকেই অচেনা লাগে।
এই বিধ্বস্ত মানুষটা কে?
যার চোখে জল নেই, অথচ বুকের ভেতর এক সমুদ্র নোনা জল শুকিয়ে পাথর হয়ে গেছে।
তুমি বলতে, এক মুহূর্তও নাকি আমায় ছাড়া চলবে না। তবে আজ যখন জীবন-মৃত্যুর সীমানায় দাঁড়িয়ে তোমার নাম ধরে ডাকি, কেন তোমার কণ্ঠস্বর আর শুনতে পাই না?
আমি হয়তো তোমাকে কখনো ক্ষমা করতে পারবো না-
তবু অদ্ভুতভাবে ভুলতেও পারছি না।
এটাই বোধহয় আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অভিশাপ।
তুমি আমার হাতে ভালোবাসা তুলে দিয়েছিলে
ঠিকই,
কিন্তু তার আড়ালে লুকিয়ে রেখেছিলে এক
বিষাক্ত ছুরি-
যা আমার অস্তিত্বের গভীরে ঢুকে আমাকে ভেতর থেকে শেষ করে দিয়েছে।
আমি মরে যাইনি,
কিন্তু বেঁচে থাকার সবটুকু রসদ তুমি কেড়ে নিয়েছো।
পৃথিবীর সবার কাছে ভালোবাসা আশীর্বাদ
হতে পারে,
কিন্তু আমার জন্য তোমার ভালোবাসা ছিল দীর্ঘমেয়াদী এক অভিশাপ। তুমি হয়তো নতুন আলো খুঁজে পেয়েছো,
আর আমি এখনো তোমার দেওয়া অন্ধকারে পথ হাতড়ে ফিরি।
এই ক্ষতগুলোই এখন আমার নিত্যসঙ্গী-আমার নীরব প্রতিবাদের একমাত্র ভাষা।
তুমি ভালোবাসা দিতে জানো না,
তুমি শুধু জানো মায়া আর নির্ভরতার আড়ালে মানুষকে সর্বস্বান্ত করতে।
আমার জীবনের এই মহাকাব্য শেষ হবে তোমার দেওয়া সেই ক্ষত বুকে নিয়েই-
যে ক্ষত ভালোবাসার নামে আমাকে তিলে তিলে মেরে ফেলেছে।
2026-06-06 19:13:37