@kalponik_canvas_: বাতাস বইল জোরে। গাছের পাতা ঝরার শব্দ হলো। সোহান কোনো উত্তর দিল না। উত্তর দেওয়ার ক্ষমতা তার নেই। সে এখন সকল অবহেলার ঊর্ধ্বে, মাটির গভীরে শান্তিতে ঘুমাচ্ছে। আর তাইরুন? সে আজ থেকে এক জীবন্ত লাশে পরিণত হলো, যে প্রতিদিন নিজের ভুলের মাশুল দেবে। তাইনুর যখন সোহানের কবর থেকে ফিরল, তখন তার মনের ভেতর এক প্রবল ঝড় বইছে। জীবনের হিসাবগুলো মেলাতে গিয়ে সে দেখল, সে যা কিছু চেয়েছিল—টাকা, বিলাসিতা, আভিজাত্য—সবই পেয়েছে। কিন্তু যা সে অবহেলায় হারিয়েছে, তা হলো এক জোড়া নিঃস্বার্থ চোখ, যা তাকে পৃথিবীর সবকিছুর চেয়ে বেশি দাম দিত। আসিফের আসল রূপ— তাইনুর শ্বশুরবাড়িতে ফিরে আসার পর নিজেকে একদম গুটিয়ে নিল। আসিফ তার এই পরিবর্তন লক্ষ্য করল। একদিন রাতে মদ্যপ অবস্থায় আসিফ ঘরে ঢুকে তাইরুনকে মনমরা হয়ে বসে থাকতে দেখে খেপে গেল। "কী হয়েছে তোমার? সেই ভিখারি ভাইটার জন্য এখনও শোক পালন করছ?" আসিফের কণ্ঠে বিষ মেশানো বিদ্রূপ। তাইনুর এবার চুপ থাকল না। সে শান্ত গলায় বলল, "ও ভিখারি ছিল না আসিফ। ও ছিল একটা বিশাল হৃদয়ের মানুষ, যার কাছে ভালোবাসাটা কেনাবেচার বস্তু ছিল না।" আসিফ অট্টহাসি দিয়ে তাইরুনের হাতটা সজোরে চেপে ধরল। "ভালোবাসা! শোনো তাইরুন, ভালোবাসা দিয়ে পেট ভরে না। আমি তোমাকে দামী গাড়ি দিয়েছি, এসি ঘর দিয়েছি। এখন যদি দেখি তুমি ওই মরা মানুষের জন্য আমার ঘরটা শ্মশান বানাচ্ছ, তবে মনে রেখো, আমি তোমাকে রাস্তা থেকে তুলে এনেছি, রাস্তায় নামিয়ে দিতেও সময় নেব না।" তাইনুর সেদিন রাতে বুঝতে পারল, সে আসলে এক সোনার খাঁচায় বন্দি পাখি। তার ডানা আছে, কিন্তু ওড়ার অধিকার নেই। সে সারা রাত ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকল। সোহান কি নক্ষত্র হয়ে তাকে দেখছে? সোহান কি হাসছে তার এই দশা দেখে? সোহানের পরিবারের হাহাকার— সোহানদের বাড়িতে এখন অভাবের কালো ছায়া আরও গভীর হয়েছে। সোহানের বাবা অসুস্থতার কারণে কাজে যেতে পারছেন না। সিয়ামের স্কুলের বেতন বাকি পড়েছে তিন মাসের। সোহানের মা এখন প্রায়ই উল্টোপাল্টা কথা বলেন। মাঝরাতে উঠে তিনি সোহানের শার্ট জড়িয়ে ধরে বসে থাকেন আর বিড়বিড় করে বলেন, "সোহান, আজ তো অনেক রাত হলো, তুই কেন আসছিস না? তোর জন্য ডিম ভেজে রেখেছি যে!" শিলা এখন সেলাইয়ের কাজ ধরেছে। পাড়ার মানুষের জামাকাপড় সেলাই করে যা পায়, তা দিয়ে কোনোমতে লবণ-ভাতের সংসার চলে। একদিন বড় মামা (তাইরুনের বাবা) কিছু চাল আর ডাল পাঠিয়েছিলেন। শিলা সেই ব্যাগটা ছুঁড়ে উঠোনে ফেলে দিল। সে চিৎকার করে বলল, "মামাকে গিয়ে বলবেন, আমরা না খেয়ে মরে গেলেও ওনার দান নেব না। ওনার মেয়ে আমার ভাইকে তিলে তিলে মেরে ফেলেছে। এখন অন্ন দিয়ে পাপ ঢাকতে হবে না।" এক গোপন চিঠি— তাইনুর এখন প্রায়ই রাতে একা কাঁদে। সে তার দাম্পত্য জীবনে কোনো সুখ খুঁজে পাচ্ছে না। আসিফ এখন প্রায়ই বাইরে রাত কাটায়, অন্য মেয়েদের সাথে সময় কাটায়। তাইরুন প্রতিবাদ করলে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সইতে হয়। একদিন তাইরুন সোহানের সেই পুরনো ডায়েরিটা আবার বের করল। ডায়েরির এক কোণে ছোট করে লেখা ছিল একটা ফোন নম্বর। সোহান লিখেছিল— "কখনও যদি খুব একা লাগে, এই নম্বরে একটা মেসেজ দিয়ো আপু। আমি থাকব না, কিন্তু আমার বন্ধু আকাশ তোমাকে সাহায্য করবে।" তাইনুর কাঁপাকাঁপা হাতে আকাশকে ফোন করল। আকাশ ছিল সোহানের একমাত্র কাছের বন্ধু, যে সোহানের সব কষ্ট জানত। ফোন ধরতেই আকাশ চিনতে পারল তাইরুনকে। আকাশের গলায় ছিল জমাটবদ্ধ ঘৃণা। সে বলল, "কেন ফোন করেছেন? সোহান তো নেই। ওকে তো আপনারা কবরে পাঠিয়ে শান্তি পেয়েছেন। এখন আবার কী চান?" তাইনুর ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে বলল, "আকাশ, আমি খুব বিপদে আছি। আমি... আমি বুঝতে পারিনি আমি কী হারিয়েছি। আমাকে একটু সোহানের ব্যাপারে বলবে? ও শেষ দিনগুলোতে কী বলত?" আকাশ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, "ও শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আপনার জন্য দোয়া করে গেছে। ও বলত— 'আকাশ, তাইরুন আপু খুব জেদি। ও যাকে বিয়ে করবে, সেই মানুষটা যেন ওকে কষ্ট না দেয়। ও সহ্য করতে পারবে না।' অথচ দেখুন তাইরুন আপু, আপনি যার জন্য ওকে ত্যাগ করলেন, সেই মানুষটাই আজ আপনাকে কষ্ট দিচ্ছে। এটাই বোধহয় সোহানের সেই নীরব কান্নার অভিশাপ।" তাইনুর ফোনটা রেখে মেঝেতে বসে পড়ল। তার মনে হলো তার চারদিকের দেয়ালগুলো তাকে পিষে মারছে। সে ডায়েরির পাতায় নিজের রক্ত দিয়ে লিখতে চাইল— "সোহান, আমি আসছি। আমাকে মাফ করে দে।" সপ্তম পাঠের সমাপ্তি...⁉️ #লেখনিতে_জুবায়ের_হোসেন #উপন্যাসপ্রেমি #শূন্য_হৃদয়ের_হাহাকার #foryou #viralvideo
—//✨Kalponik_Canvas_📖
Region: BD
Wednesday 10 June 2026 15:03:44 GMT
Music
Download
Comments
🎀❤️🩹GM Jihad🫂💯 :
❤️🩹🫶
2026-06-11 01:39:43
0
🚭 :
🥰🥰🥰❤️❤️❤️
2026-06-10 17:23:43
0
🥷☠️ ĂŘFÃŊ ☠️🥷 :
🥰🥰🥰🥰
2026-06-10 15:50:55
0
㉨ 𝐎𝐟𝐟𝐥𝐢𝐧𝐞 ㉨ :
🥰🥰🥰
2026-06-10 15:15:20
0
💫SIMANTO BBZ🫦🪡🍫 :
💓🫶
2026-06-10 15:09:56
0
R H K Rabbi Gemar :
❤️🩹❤️🩹❤️🩹
2026-06-11 02:11:19
0
To see more videos from user @kalponik_canvas_, please go to the Tikwm
homepage.