____52.06. :
থাইকা যাও না পাখি,
তুমি চইল্যা গ্যালেই দুর্ভিক্ষ লাগাম পাইয়া যাইবো বুকের শহর।
থাইকা যাও না পাখি,
তুমি না থাকলে আমার ভেতরডা হইয়া যায় ভাঙা হাটবারের মতোন,মানুষ নাই, কোলাহল নাই,
শুধু ঝড়ের পরে উড়তাছে ছেঁড়া ত্রিপল,
আর আমি একা বসে গুনতাছি হারাইয়া যাওয়া দিনগুলা।
তুমি চইল্যা গেলে বুকের শহরে পানি শুকাইয়া যায়,
নদীটা হইয়া যায় কার্তিক মাসের খাল,জোয়ার আসে না, ঢেউ উঠে না,
শুধু কাদার গন্ধে ভরা একলা নিঃশ্বাস পড়ে।
তুমি থাইকা গ্যালেই,
এই বুকের ভেতর মাঘের শীতেও পান্তা ভাতের গরম ধোঁয়া উঠে,
ক্ষুধার ভেতরেও তৃপ্তি লাগে,
আর তুমি চইল্যা গ্যালেই সবকিছু হইয়া যায় রোজার বিকেলের মতো দীর্ঘ,
সময় যায় না, যেন থাইমা যায় ঘড়ির কাটা,
পিপাসা বাড়তেই থাকে।
থাইকা যাও না পাখি,
তুমি ছাড়া আমার দিনডা হইবো লোডশেডিংয়ের গ্রাম,
বাত্তি নাই, আলো নাই,দূরে কোথাও একটা কেরোসিনের বাতি জ্বলে,
কিন্তু সেই আলো আমার ঘরে পৌঁছায় না।
তুমি গ্যালে—
আমার ঘুমগুলা হইয়া যায় পথহারা গরুর মতো,
ফিরার রাস্তা পায় না,রাত জাগে, কাঁদে,
আর ভোর হইলেও কুনো সূর্য ওঠে না মনে।
থাইকা যাও না পাখি,
তুমি থাকলে আমার বুকডা হইয়া যায় আষাঢ়ের ভরা নদী,উথাল-পাথাল সুখে ভইরা থাকে,
আর তুমি চইল্যা গ্যালেই,
সেই নদীই শুকায়া যাইয়া বালুচরে পড়ে থাকা নৌকার মতোন,নিস্তব্ধ, অসহায়, অচল হইয়া থাকি আমি।
থাইকা যাও না পাখি,
কারণ তুমি ছাড়া এই জীবনডা শুধু বাঁচা না,
এইডা হইয়া যায় অপেক্ষার ভিতরে আটকা পড়া এক দীর্ঘ দুর্ভিক্ষ,
যেইখানে প্রতিটা নিঃশ্বাস একটা করে না-পাওয়া বৃষ্টির হিসাব রাখে, ইশ কি ভীষণ যন্ত্রণার যন্ত্রপাতি বুকে খুঁচায়।
লেখা. রিমি ✍🏻
2026-06-14 17:51:39