@highsky696569: অনেকে ভেবেছিলেন সুহাসিনী মুলে হয়তো আর কোনও দিন বিয়ে করবেন না। কিন্তু ৬০ বছর বয়সে ফেসবুকে এক বিজ্ঞানীর সঙ্গে পরিচয় বদলে দেয় তাঁর জীবন। এলএইচসি নিয়ে একটি সাধারণ প্রশ্ন থেকে শুরু হয়েছিল আলাপ, আর মাত্র ৭৫ দিনের মধ্যেই তাঁরা বিয়ে করেন। বয়স যে ভালোবাসার পথে বাধা নয়, সুহাসিনী ও অতুল গুর্তুর গল্প যেন তারই এক সুন্দর প্রমাণ। ---- ষাট বছর বয়স পর্যন্ত বিয়ে না করে একাই জীবন কাটিয়েছিলেন অভিনেত্রী সুহাসিনী মুলে। বহু মানুষ তাঁকে প্রশ্ন করেছেন, কেউ অবাক হয়েছেন, আবার কেউ সমালোচনাও করেছেন। কিন্তু সুহাসিনী নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, শুধুমাত্র সমাজের চাপে বা বয়সের কারণে বিয়ে করা নয়, জীবনের সঙ্গী এমন একজন হওয়া উচিত যাঁর সঙ্গে সমান মর্যাদা, সম্মান আর মানসিক মিল থাকবে। সেই মানুষটির খোঁজ তিনি পাননি বলেই দীর্ঘ সময় একাই থেকেছেন। অথচ জীবনের ষষ্ঠ দশকে এসে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা বদলে দেয় তাঁর জীবন। সুহাসিনী মুলে ভারতীয় চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ। ‘লগান’, ‘জোধা আকবর’, ‘দিল চাহতা হ্যায়’-এর মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। তবে ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দীর্ঘ সময় ছিলেন একা। এর আগে তাঁর একটি দীর্ঘ সহবাস সম্পর্ক ছিল, যা ১৯৯০ সালে শেষ হয়ে যায়। এরপর প্রায় দুই দশক তিনি একাই জীবন কাটান। সেই সময় এক সহকর্মীর পরামর্শে তিনি ফেসবুকে যোগ দেন। প্রেমের খোঁজে নয়, নতুন মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ ছিল তাঁর। ফেসবুকে ঘুরতে ঘুরতে তাঁর নজরে আসে অতুল গুর্তুর প্রোফাইল। অতুল গুর্তু একজন বিশিষ্ট ভারতীয় কণা পদার্থবিজ্ঞানী। তিনি বহু বছর ধরে টাটা ইনস্টিটিউট অব ফান্ডামেন্টাল রিসার্চে কাজ করেছেন এবং ইউরোপের সার্ন গবেষণা কেন্দ্রে ভারতের বিভিন্ন পরীক্ষামূলক প্রকল্পের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে বিশ্বের বৃহত্তম কণা ত্বরক ‘লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার’ বা এলএইচসি নিয়ে তাঁর গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে ধরা হয়। বিজ্ঞান নিয়ে আগ্রহ ছিল সুহাসিনীরও। তাই একদিন তিনি অতুলকে একটি বার্তা পাঠান। প্রশ্ন ছিল এলএইচসি নিয়ে। সেখান থেকেই শুরু হয় কথোপকথন। ধীরে ধীরে বিজ্ঞান, বই, জীবনদর্শন আর নানা বিষয়ে তাঁদের আলোচনা বাড়তে থাকে। অনলাইন বন্ধুত্ব একসময় গভীর সম্পর্কে পরিণত হয়। যদিও প্রথমে সুহাসিনী কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন। তিনি নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন যে অতুল সত্যিই সেই মানুষ, যিনি নিজেকে পরিচয় দিচ্ছেন। তাই তাঁর কর্মক্ষেত্র এবং পরিচিতদের মাধ্যমে অতুল সম্পর্কে খোঁজও নেন। অবশেষে দুজনের প্রথম দেখা হয়। সেই সাক্ষাতেই তাঁরা বুঝতে পারেন, এতদিন ধরে যে মানসিক সঙ্গীর খোঁজ চলছিল, হয়তো তিনি সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। আশ্চর্যের বিষয়, প্রথম সাক্ষাতের মাত্র ৭৫ দিনের মধ্যেই তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। ২০১১ সালের ১৬ জানুয়ারি আর্য সমাজের রীতিতে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। তখন সুহাসিনীর বয়স ৬০ বছর। সুহাসিনী পরে একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, মানুষ তাঁকে যেমন কম বয়সে বিয়ে না করার জন্য বিচার করেছে, তেমনই ৬০ বছর বয়সে বিয়ে করার জন্যও সমালোচনা করেছে। কিন্তু তিনি কখনও সেই চাপকে গুরুত্ব দেননি। তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল এমন একজন মানুষকে খুঁজে পাওয়া, যাঁর সঙ্গে সমানভাবে জীবন কাটানো যায়। আর সেই মানুষটির সন্ধান তিনি পেয়েছিলেন এক সাধারণ ফেসবুক বার্তার মাধ্যমে, যেখানে শুরু হয়েছিল বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা, আর অজান্তেই জন্ম নিয়েছিল এক গভীর ভালোবাসার গল্প। #story #lovestory #motivation #Lifestyle #followme

HighSky696569
HighSky696569
Open In TikTok:
Region: BD
Saturday 20 June 2026 15:36:06 GMT
5851
25
0
4

Music

Download

Comments

There are no more comments for this video.
To see more videos from user @highsky696569, please go to the Tikwm homepage.

Other Videos


About