Aahik Ashik :
তোমার জীবনের গল্পটা কেউ লিখে দেবে না। কলমটা তোমার হাতেই আছে। প্রশ্ন হলো—তুমি কি অভিযোগ লিখবে, নাকি ইতিহাস?
জীবন এমন একটি বই, যার প্রতিটি পৃষ্ঠা প্রতিদিন নতুন করে লেখা হয়। এই বইয়ের লেখক তুমি নিজেই। কেউ তোমার হয়ে তোমার স্বপ্ন দেখবে না, কেউ তোমার হয়ে সংগ্রাম করবে না, আর কেউ তোমার ব্যর্থতার দায়ও বহন করবে না। তাই জীবনের কলম যখন তোমার হাতেই আছে, তখন সিদ্ধান্তও তোমাকেই নিতে হবে—তুমি কি অজুহাতের গল্প লিখবে, নাকি অর্জনের ইতিহাস?
অনেক মানুষ সারাজীবন অভিযোগ করেই কাটিয়ে দেয়। তারা বলে, সুযোগ ছিল না, সময় ছিল না, পরিবেশ ভালো ছিল না, মানুষ সহযোগিতা করেনি। কিন্তু ইতিহাস কখনো অজুহাতের জন্য জায়গা রাখে না। ইতিহাস মনে রাখে তাদের, যারা প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে এগিয়ে গেছে। যারা হাজার বাধার মাঝেও নিজের লক্ষ্য থেকে চোখ সরায়নি। যারা পড়ে গিয়েও আবার উঠে দাঁড়িয়েছে।
মনে রাখতে হবে, জীবনের সবচেয়ে বড় শত্রু ব্যর্থতা নয়; সবচেয়ে বড় শত্রু হলো হাল ছেড়ে দেওয়া। কারণ ব্যর্থতা মানুষকে শিক্ষা দেয়, কিন্তু হাল ছেড়ে দেওয়া মানুষের সম্ভাবনাকেই হত্যা করে। যারা ইতিহাস সৃষ্টি করেছে, তারা কেউই সহজ পথ পায়নি। তাদেরও কষ্ট ছিল, সীমাবদ্ধতা ছিল, হতাশা ছিল। পার্থক্য শুধু একটাই—তারা অভিযোগের ভাষা ছেড়ে কাজের ভাষা শিখেছিল।
প্রতিটি সকাল তোমাকে একটি খালি পৃষ্ঠা উপহার দেয়। সেই পৃষ্ঠায় তুমি কী লিখবে, তা সম্পূর্ণ তোমার সিদ্ধান্ত। তুমি চাইলে সেখানে ব্যর্থতার কারণ লিখতে পারো, অথবা সাফল্যের প্রস্তুতি লিখতে পারো। তুমি চাইলে অন্যের দোষ খুঁজতে পারো, অথবা নিজের উন্নতির পথ খুঁজতে পারো। কারণ শেষ পর্যন্ত পৃথিবী তোমার সমস্যার গল্প শুনতে চায় না; পৃথিবী দেখতে চায় তুমি সেই সমস্যার মোকাবিলা কীভাবে করেছ।
তাই নিজের জীবনের কলম অন্য কারও হাতে তুলে দিও না। মানুষের সমালোচনা, পরিস্থিতির কঠিনতা কিংবা সাময়িক ব্যর্থতা যেন তোমার গল্পের শেষ অধ্যায় না হয়ে যায়। এমনভাবে বাঁচো, যেন একদিন ফিরে তাকিয়ে বলতে পারো—“আমি অভিযোগ লিখিনি, আমি ইতিহাস লিখেছি।”
2026-06-27 05:11:04