@barthokobi2460: আমাকে নিয়ে যাও। আমি আর পারছি না।" যে মানুষটি আমার জন্য এতটা লড়াই করেছে, তাকে আর এক মুহূর্তও একা রেখে দেওয়া যায় না।তারপর আমরা জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলাম...২০২৪ সালের ১৬ জুন, ঈদের আগের দিন সকালবেলা আমরা দুজন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাই। আমাদের উদ্দেশ্য কখনোই কারও সম্মান নষ্ট করা বা পরিবারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা ছিল না। আমরা শুধু চেয়েছিলাম, আইনিভাবে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে একটি ছোট্ট সংসার গড়ে তুলতে, যেখানে থাকবে শুধু ভালোবাসা, বিশ্বাস আর একসঙ্গে বেঁচে থাকার স্বপ্ন। যে মানুষটিকে আমি নিজের স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেছি, তাকে নিজের পাশে রাখতে চেয়েছিলাম। আর সাদিয়াও আমার হাত শক্ত করে ধরে বলেছিল, "আজ থেকে যা-ই হোক, আমরা একসাথেই থাকব।" সেই মুহূর্তে মনে হয়েছিল, পৃথিবীর কোনো শক্তিই আর আমাদের আলাদা করতে পারবে না। কিন্তু মানুষের পরিকল্পনার চেয়ে নিয়তির পরিকল্পনা যে কতটা নির্মম হতে পারে, তা আমরা তখনও জানতাম না।আমরা বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পর তার পরিবার থানায় অভিযোগ করে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পুলিশ আমাদের খুঁজে বের করে থানায় নিয়ে যায়। আমার বুকের ভেতর তখন হাজারো ভয়, অনিশ্চয়তা আর অজানা আশঙ্কা কাজ করছিল। কিন্তু সেই কঠিন মুহূর্তেও সাদিয়াকে দেখে আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। কারণ সে ভয় না পেয়ে, মাথা নিচু না করে, সবার সামনে বুক সোজা করে সত্যিটাই বলেছিল। থানার ওসি স্যারের সামনে সে স্পষ্ট ভাষায় বলেছিল— "স্যার, আমি কাউকে অপহরণ করে আনিনি, কেউ আমাকে জোর করেও নিয়ে আসেনি। আমরা প্রায় সাত বছরের সম্পর্কের পর নিজেদের ইচ্ছায় বিয়ে করেছি। আমি আগে আমার পরিবারকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু আমার বড় ভাই আমাকে অনেক নির্যাতন করেছে। সেই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আমি আমার স্বামীর কাছে চলে এসেছি।" তার প্রতিটি কথা শুনে আমার বুক গর্বে ভরে উঠছিল। মনে হচ্ছিল, পৃথিবীর সব কষ্ট, সব অপমান, সব লড়াই আমি সহ্য করতে পারব, যদি এই মানুষটি শেষ পর্যন্ত আমার হাতটা শক্ত করে ধরে রাখে। তখনও বিশ্বাস ছিল, সত্যের শেষ পর্যন্ত জয় হবেই। কিন্তু ভাগ্য আবারও আমাদের সঙ্গে সবচেয়ে নিষ্ঠুর খেলাটা খেলল। অনেক অনুরোধ, অনেক কান্নাকাটি আর তার বাবার অসুস্থতার কথা বলে পরিবারের লোকজন থানা থেকে মাত্র এক দিনের জন্য সাদিয়াকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি নেয়। আমি তখনও বিশ্বাস করেছিলাম, একদিন পরই সে আবার আমার কাছে ফিরে আসবে। কারণ আমি জানতাম, সে আমাকে ভালোবাসে, আর আমি তাকে আমার জীবনের থেকেও বেশি ভালোবাসি। কিন্তু সেই একদিনই আমাদের জীবনের সবচেয়ে দীর্ঘ বিচ্ছেদ হয়ে গেল।এরপর আমি অসংখ্যবার তাদের বাড়িতে ফোন করেছি। তার বোনের কাছে কাকুতি-মিনতি করেছি, অন্তত একবার যেন সাদিয়ার সঙ্গে কথা বলতে দেয়। কিন্তু কেউ আমাকে সেই সুযোগ দেয়নি। আমার প্রতিটি ফোন কেটে দেওয়া হতো, প্রতিটি অপেক্ষা ভেঙে যেত, প্রতিটি আশা ধীরে ধীরে নিভে যেতে থাকত। আমি শুধু অপেক্ষা করতাম—হয়তো আজ সে একবার ফোন করবে, হয়তো একবার বলবে, "রিয়াজ, আমি ফিরে আসব।" কিন্তু সেই প্রতীক্ষা শুধু দীর্ঘই হতে থাকল। এর কিছুদিন পর তার এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। আমি প্রতিদিন দূর থেকে তাকে দেখতাম। তার ভাই তাকে পরীক্ষার হলে নিয়ে যেত, আর আমি অনেক দূরে দাঁড়িয়ে শুধু তাকিয়ে থাকতাম। সে আমার চোখের সামনেই থাকত, অথচ আমি তার কাছে যেতে পারতাম না, তার সঙ্গে এক মিনিট কথা বলারও অধিকার ছিল না। মনে হতো, সে যেন খুব কাছেই আছে, কিন্তু আমাদের মাঝখানে হাজার মাইলের দূরত্ব দাঁড়িয়ে আছে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর তাকে ঢাকায়, তার বড় বোনের বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর একে একে প্রায় ছয় মাস কেটে যায়। প্রতিটি দিন, প্রতিটি রাত আমার কাছে ছিল অসহ্য অপেক্ষার নাম। তবুও আমি আশা ছাড়িনি। একদিন হঠাৎ সে আবার আমার সঙ্গে যোগাযোগ করল। সেই মুহূর্তে মনে হয়েছিল, হয়তো আল্লাহ আবার আমাদের জন্য নতুন করে একটি দরজা খুলে দিয়েছেন। মনে হয়েছিল, এতদিনের সব কষ্টের অবসান হতে চলেছে। আমি তাকে বলেছিলাম— "চলো সাদিয়া, আমরা আবার নতুন করে জীবন শুরু করি। এবার আর কাউকে কিছু বলব না। শুধু তুমি আমার সঙ্গে চলো।" কিন্তু অনেকক্ষণ নীরব থাকার পর সে শুধু একটি কথাই বলেছিল— "আমি আর পারব না রিয়াজ। একবার চলে গিয়ে আমার আর আমার পরিবারের মান-সম্মান নষ্ট হয়েছে। দ্বিতীয়বার আর যেতে পারব না। তুমি আমাকে ভুলে যাও।" তার সেই কথাগুলো আমার বুকের ভেতর ছুরির মতো বিঁধেছিল। আমি কিছুই বলতে পারিনি। শুধু ভাবছিলাম, এ কি সেই সাদিয়া, যে একদিন বলেছিল— "প্রয়োজনে গার্মেন্টসে চাকরি করব, তবুও তোমাকে ছেড়ে যাব না?" যে মেয়েটি একদিন আমার জন্য নিজের পরিবারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল, আজ সে-ই আমাকে ভুলে যেতে বলছে! ভালোবাসা কি সত্যিই এত সহজে বদলে যায়, নাকি মানুষ একসময় পরিস্থিতির কাছে নিজের স্বপ্নগুলোকে হার মানিয়ে দেয়? এরপর তাকে আবার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। আর আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর দিন। ➤ পুরোটা গল্প আমার নিজের। Part-03 জন্য একটা কমেন্ট করুন।
ব্যর্থ কবি⳼®⛎
Region: BD
Saturday 04 July 2026 14:02:35 GMT
Music
Download
Comments
𝗡 𝐕𝐚⃪꯭𝐥𝐨⃪꯭𝐛⃪꯭𝐚⃪𝐬⃪꯭𝐢⃪꯭ :
Next PART 3
2026-07-10 10:14:02
1
B 🚩 :
কি কথা টা ই না কইলা 😩😭
2026-07-06 16:51:56
3
Suhan_Singh :
মাফ চাই, আল্লাহ এমন টা না দেক।
2026-07-05 19:44:15
3
💞RASHED MHAMUD💞 :
amin
2026-07-05 02:12:14
2
ReDoy :
সুর বা গানের নাম টা কেউ বলবেন
2026-07-07 07:20:24
2
🗣️👉ক্যাপশনের আড়ালে আমি 🎌 :
same
2026-07-05 14:13:15
1
💓Mr Sharif Ahmed❤️ :
হুম
2026-07-05 07:56:37
3
Touhidul Islam :
হুম, দরকার নাই
2026-07-10 10:55:03
1
Itz Sagor :
2026-07-07 14:55:38
1
Jesmin Sultana :
🤲🤲🤲🤲🤲🤲 আল্লাহ অনেক বেশি ধৈরয দিক ব
2026-07-05 12:11:58
2
࿐☠কবিতা☠ᬊ᭄ :
আমাকেও যেন না দিক🥰
2026-07-05 16:24:13
2
Rahim Babu :
আমীন
2026-07-05 17:58:19
1
Non DOn :
হুম
2026-07-04 18:56:07
1
SHANTO SARKER :
হুম
2026-07-05 06:49:49
2
Rayhan :
কিছু বলার নাই
2026-07-10 12:39:46
1
Md Nurul :
আমিন
2026-07-04 15:21:04
1
𒆜❃𖤔 𝐟𝐞𝐞𝐥𝐢𝐧𝐠𝐬 𖤔❃𒆜 :
হুম
2026-07-09 08:44:28
1
ÜÑ--Lúçky💔💔 :
চেয়েছিলাম এইরকম বাট হয়ে গেছে তার বিপরীত
2026-07-15 21:46:56
1
বিপ্লব সিংহ :
hummm
2026-07-25 14:23:04
1
EMRAN :
🥺🥺
মৃত্যুর সাদ পাচ্ছি
2026-07-10 17:00:58
1
MdEmon :
আমার সারা জীবন এই আফসোস নিয়েই বাঁচতে হবে-যে তুমি ইচ্ছে করেই আমার হইলা না😅
2026-07-06 12:07:48
2
পেরেশানির শহর🥴 :
তুমি যাকে ছেড়ে গেছো,তাকে ছেড়ে যাবে মিছিল,কবিতা, বৃষ্টি ও বসন্ত তাঁর মুখ হবে মলিন। তাকে দেখামাত্রই চেনা যাবে। গ্রীষ্মের তাপদাহে,তার আঙ্গলের ফাঁকে অবিরত জ্বলবে সিগারেট। পথে পথে তার হবে অযথা চলাচল, মায়া করে তার কাছে ভিক্ষা চাইবে নাহ ভিক্ষুক।তার আকাশ বাতাস রুক্ষ হবে। তার দৃষ্টি থাকবে স্থির....তার মুখ হবে মলিন।তাকে দেখামাত্রই চেনা যাবে দেখামাত্রই চেনা যাবে।
2026-07-22 10:16:42
0
ISMAIL :
Right✊✊
2026-07-08 09:08:51
1
Md Arman :
@keya Islam❤️❤️Ak❤️❤️ভাগ্য করে পেয়েছি ,হারিয়ে পেলেছি,আমার নিজের কারনেই আজ আমি হতবাগা।
2026-07-12 17:40:06
1
To see more videos from user @barthokobi2460, please go to the Tikwm
homepage.