ꪑꪮᦔ𝓲ꪀꪖ♡❀ :
রিয়ার পরিবারে তিনজন সদস্য থাকত—রিয়া, তার মা এবং বাবা। রিয়ার বাবা একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। চাকরির কারণে তাদের কয়েকদিন পরপর বদলি হতে হতো। এর ফলে রিয়ার পড়াশোনা ঠিকমতো হচ্ছিল না। রিয়ার বাবা চাইতেন রিয়া আর তার মা এক জায়গায় থাকুক, কিন্তু রিয়ার মা চাইতেন সব সময় বাবার সাথে থাকুক। কারণ তাদের ভালোবাসা করে বিয়ে হয়েছিল। মা ভয়ে ভাবতেন, যদি বাবা আবার বিয়ে করে বা তাকে আলাদা করে ফেলে। তাই তারা সব সময় একসাথে থাকতেন।
একদিন তারা একটি নির্জন এলাকায় ছোট একটি বাসায় ভাড়া নিল। ভাড়া মাত্র ১০০০ টাকা। এত কম ভাড়া পেয়ে তারা অবাক হলেও স্থির করল এখানে থাকতে।
কিছুদিন পরে রিয়া বাইরে ঘুরতে বের হলো। হঠাৎ সে দূরে এক ছেলেকে দেখতে পেল। ছেলেটি একাই দাঁড়িয়ে ছিল এবং চুপচাপ রিয়ার দিকে তাকিয়ে ছিল। রিয়া তার কাছে গেল এবং জিজ্ঞেস করল, “আপনার নাম কি?”
ছেলেটি বলল, “আমার নাম মিরাজ।”
তারপর হঠাৎ বলল, “তোমার নাম রিয়া, তাই না? তোমার বাবা কোম্পানিতে চাকরি করেন, তাই তোমাদের বারবার বদলি হয়।”
রিয়া ভয়ে বলল, “আপনি জানলেন কিভাবে?”
মিরাজ হেসে বলল, “আমি সব জানি।”
ঠিক সেই মুহূর্তে রিয়ার মা বাইরে এসে দেখলেন রিয়া একা কথা বলছে। তিনি বললেন, “কি রে রিয়া, কার সাথে কথা বলছিস? আয়, খেতে আয়।”
রিয়া তখন দেখল মিরাজের চোখ নীল আলোয় জলজ্বল করছে। ভয়ে সে দৌড়ে বাড়ির ভিতরে ফিরে গেল এবং মাকে সব ঘটনা বলল।
রিয়ার মা বললেন, “বহুদিন আগে… তুই তখন ছোট ছিলি। তোর বাবা একটি মুরগি এনেছিল। মুরগিটির চোখ নীল ছিল। বাবা বলেছিল, আজ এটা রান্না কর। আমি রান্না করেছিলাম। কিন্তু আমরা খাওয়ার পর দুজনেই একসাথে বমি করতে শুরু করেছিলাম। এরপর থেকে রাত ১২টার পর ঘুমানো সম্ভব হতো না। মনে হতো কেউ ছাদের ওপর নুপুর পরে হাঁটছে। সেই আওয়াজ ঘরের ভিতরও শোনা যেত।”
একদিন রাতের বেলা রিয়ার বাবা ওয়াশরুমে গেল। হঠাৎ মনে হলো কেউ দরজা ভেঙে ফেলবে। বাইরে গেলেও কেউ ছিল না। পরের দিন আবার সেই ঘটনা ঘটল।
পরিবার ভয়ে হুজুরের কাছে গেল। হুজুর বললেন, “কিছু জিনজাতি আছে যারা পশু-পাখির রূপ নিতে পারে। সেই মুরগিটি যা তোমাদের বাবা এনেছিল, সেটি ছিল একজন মহিলা জিন। মিরাজ হলো তার ছেলে। তারা এখন তোমাদের পিছু দিচ্ছে।”
হুজুর তিনজনকে তিনটি তাবিজ দিলেন। তিনি বললেন, “এই তাবিজ তিনটি তোমাদের বাসা এবং পরিবারকে সুরক্ষিত করবে। জিন বা অশুভ শক্তি আর প্রবেশ করতে পারবে না। বাসার ভেতর বা বাইরে আর কোনো অশুভ ঘটনা ঘটবে না।”
2026-07-08 12:34:05