__52.06. :
জানো; মাঝে মাঝে খুব জানতে ইচ্ছে করে,
আমার কোন যত্নের অভাব ছিল তোমার কাছে?
আমি তো চরমপন্থী এক উন্মাদ ছিলাম, যে নিজের ভালো থাকার শেষ অধিকারটুকু ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে তোমাকে বুকের গহীনে আগলে রেখেছিল; অথচ তুমি ছিলে এক নিস্পৃহ পাষাণ, যে নিজের আত্মকেন্দ্রিক অহংকার ছাড়া অন্য কোনো পবিত্র অনুভূতির মূল্য বোঝোনি!
আমি চেয়েছিলাম তোমার ওই মেঘলা আকাশের একমাত্র চাতক পাখি হতে অথচ; তুমি আমার তৃষ্ণার্ত ডানায় ছুঁড়ে দিলে এক বুক জ্বলন্ত অবহেলা। আমি যখন আমার এই রক্তাক্ত হৃদয় নিয়ে তোমার চরণে আশ্রয় চেয়েছিলাম, তুমি তখন অন্য কোনো মায়াবী জগতের মোহে মত্ত ছিলে!
আমি চেয়েছিলাম তোমার বিষাদময় একাকী রাতের একমাত্র ধ্রুবতারা হতে, অথচ; তুমি আমাকে জীবন্ত সমাধি দিলে এক চরম অবহেলার অন্ধকারে। তুমি আমার বিশ্বাসের ক্যানভাসে বিশ্বাসের রঙ না লেপে, সেখানে এঁকে দিলে এক বুক ভাঙনের নীল নকশা।
আমি তোমার দেওয়া প্রতিটি আঘাত আর লাঞ্ছনা মুখ বুজে সহ্যের চরম সীমায় নিয়ে গিয়েছিলাম; "শুধু তোমাকে হারানোর ভয়ে" আর তুমি সেটাকে আমার দীনতা ভেবে আরও নির্মমভাবে পিষ্ট করেছ আমায়। আমার সমস্ত জগত জুড়ে যখন শুধু তোমাকে পাওয়ার আকুল আকুতি আর আর্তনাদ ছিল, তোমার সেই বিশাল শূন্য অবয়বে আমার এই তীব্র আবেগের কোনো স্থানই ছিল না।
আমি ভালোবেসেছিলাম আমার আত্মমর্যাদা বিসর্জন দিয়ে সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে, আর তুমি প্রতিদানে আমার হাতে একটা বিষাক্ত শিউলি ফুল গুঁজে দিয়ে বললে- তোমার এই উন্মাদের মতো ভালোবাসার এটাই প্রাপ্য।আমার হৃৎপিণ্ডের প্রতিটি স্পন্দনের যেখানে তোমার নাম জপতো, আজ সেখানে কেবলই এক হঠাৎ থমকে যাওয়া শ্রাবণের মেঘ, যা ঝরেও পড়ে না অথচ; বুকটাকে ভারী করে রাখে!
আমার সমর্পণে কোনো কমতি ছিল না প্রিয়, কমতি ছিল আসলে তোমার ওই পাঁজরের নিচে এক চিলতে মায়ার, যা তুমি অহংকারের বাজারে অনেক আগেই বিক্রি করে দিয়েছ। এই তীব্র সর্বগ্রাসী ভালোবাসার শেষ পরিণতি যে এতটা সস্তা আর করুণ হবে তা আমি ভাবতেও পারিনি; আমি মানুষ হিসেবে আজ সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে গেলাম, আর তুমি রয়ে গেলে তোমার সেই চেনা অহংকারের রাজপ্রাসাদে।
✍️রিমি
2026-07-10 08:21:30