@sojib.global: বিশ্বাসের গল্পটা শুনলে সবাই যে কতটা বিশ্বাসী মানুষ ছিল সেটা বোঝা যায়। হাচিকো এই জাপানি কুকুরটি ১৯২৪ সালে তার মালিকের জন্য ৯ বছর টানা অপেক্ষা করেছে, যা সত্যিই অবাক করার মতো। প্রতিদিন সকালে স্টেশনে গিয়ে অপেক্ষা, কোন কিছুতেই যেন তার এই বিশ্বাস কমেনি। এখনো তার স্মৃতি জাপানে জীবিত, ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য ও শতাধিক মানুষের আনুগত্য দেখে বুঝতে পারা যায়।
বিশ্বস্ততার কথা উঠলেই সবার আগে একটু নাম আসে, হাচিকো। জাপানের আকিতা (Akita) প্রজাতির এই কুকুরটি শুধু একটি পোষা প্রাণী ছিল না, বরং ভালোবাসা আর অপেক্ষার এক জীবন্ত প্রতীক।
১৯২৪ সালে টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগের অধ্যাপক হিদেসাবুরো উএনো ছোট্ট হাচিকোকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। প্রতিদিন সকালে হাচিকো তার মালিককে শিবুয়া স্টেশন পর্যন্ত এগিয়ে দিত, আর বিকেল ৩টার দিকে একই স্টেশনে এসে তার ফেরার অপেক্ষা করত। এভাবেই চলছিল তাদের প্রতিদিনের রুটিন। কিন্তু ১৯২৫ সালের ২১ মে হঠাৎ ক্লাস নেওয়ার সময় মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (Cerebral Hemorrhage) হয়ে অধ্যাপক উএনোর মৃত্যু হয়। তিনি আর কখনোই স্টেশনে ফিরে আসেননি। কিন্তু হাচিকো তা জানত না। পরদিনও সে ঠিক বিকেল ৩টায় স্টেশনে গিয়ে অপেক্ষা করল। তারপর আবার পরের দিন, তারও পরের দিন।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, পরবর্তী ৯ বছর ৯ মাস ১৫ দিন ধরে হাচিকো প্রতিদিন সকাল-বিকেল শিবুয়া স্টেশনে এসে তার মালিকের জন্য অপেক্ষা করেছে। বৃষ্টি, রোদ কিংবা তুষার—কোনো কিছুই তার এই অভ্যাস বদলাতে পারেনি। প্রথমদিকে স্টেশনের কর্মীরা তাকে তাড়িয়ে দিতেন। কিন্তু ধীরে ধীরে সবাই হাচিকোর অটুট ভালোবাসা ও বিশ্বস্ততায় মুগ্ধ হয়ে যায়। যাত্রীরা তাকে খাবার দিতেন, আদর করতেন। ১৯৩২ সালে জাপানের একটি জাতীয় পত্রিকায় হাচিকোর গল্প প্রকাশিত হলে সে পুরো দেশজুড়ে বিশ্বস্ততার প্রতীক হয়ে ওঠে।
১৯৩৫ সালের ৮ মার্চ, ১১ বছর বয়সে হাচিকোর মৃত্যু হয়। পরে বিজ্ঞানীরা জানান, তার শরীরে ক্যান্সার ও ফাইলেরিয়া সংক্রমণ ছিল। মৃত্যুর পর তার ছাই অধ্যাপক উএনোর কবরের পাশেই সমাহিত করা হয়। শিবুয়া স্টেশনের সামনে তার স্মরণে নির্মিত ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য আজও জাপানের অন্যতম জনপ্রিয় মিলনস্থল। প্রতি বছর ৮ মার্চ শত শত মানুষ সেখানে জড়ো হয়ে হাচিকোর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। Rise With sojib 🚩
2026-07-24 09:12:17
1
tonmoymuhib2 :
🥰🥰🥰
2026-07-24 12:41:42
1
To see more videos from user @sojib.global, please go to the Tikwm
homepage.