আমি কাউকে দোষ দিই না। মানুষ তো শেষ পর্যন্ত তার স্বভাবের কাছেই ফিরে যায়—যে যেতে চায়, সে কোনো অজুহাত ছাড়াই চলে যায়; আর যে অপেক্ষা করতে জানে, সে কোনো প্রতিশ্রুতি ছাড়াই অপেক্ষা করে। বিচ্ছেদের এই অদৃশ্য সীমারেখায় দাঁড়িয়ে মানুষ প্রথমবার বুঝতে শেখে—সব হারানোই অন্যায় নয়, কিছু হারানো কেবল জীবনের স্বাভাবিক ব্যাকরণ।
আমরা প্রায়ই ভাবি, কেউ আমাদের ছেড়ে গেছে বলেই আমরা একা। অথচ একাকীত্বের জন্ম বিদায়ের মুহূর্তে নয়; তার জন্ম হয় তখন, যখন আমরা বুঝতে পারি—যার জন্য এতদিন হৃদয়ের দরজা খোলা রেখেছিলাম, সে কখনোই সেই দরজা দিয়ে ফিরে আসবে না।
তবু আমি কাউকে অভিশাপ দিই না। কারণ মানুষ তার নিজের অন্ধকার নিয়ে বাঁচে, নিজের আলো খুঁজে চলে। কেউ আমাদের রেখে যায়, কারণ তার পথ অন্যদিকে; আর আমরা থেকে যাই, কারণ আমাদের বিশ্বাস এখনো পেছনে তাকাতে শেখায়। এই দুই বিপরীত গতির মাঝখানেই তৈরি হয় এক গভীর নীরবতা—যার নাম একাকীত্ব।
হয়তো ভালোবাসার সবচেয়ে নির্মম শিক্ষা এটাই—সবাই আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য আসে না; কেউ কেউ আসে আমাদের ভেতরে একটি শূন্যতা রেখে যেতে, যাতে একদিন আমরা সেই শূন্যতার মধ্যেই নিজেদের খুঁজে পাই।
তাই এখন আর কারও চলে যাওয়াকে প্রশ্ন করি না। শুধু নীরবে মেনে নিই—কিছু মানুষ আমাদের জীবনের অধ্যায় নয়, তারা কেবল একটি দীর্ঘ বাক্য; যার শেষ শব্দটি পড়ে গেলে বইটি বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু তার প্রতিধ্বনি অনেক রাত পর্যন্ত আমাদের ঘরে থেকে যায়।