শেষ হলো কথা࿐❹❷⓿ :
কাজল চোখের মেয়ে ও এক অসম্পূর্ণ বাস্তবতা
টিভি পর্দায় 'কাজল চোখের মেয়ে' নাটকটি দেখার সময় বারবার মনে হচ্ছিল, এ তো কোনো নাটক নয়—এ যেন আমারই জীবনের এক প্রতিচ্ছবি। নাটকের কাজল চোখের সেই মেয়েটির মতোই একজনের মায়াবী চোখের প্রেমে পড়েছিলাম। তার ওই মায়াবী চোখের ইশারাতেই আমার পুরো পৃথিবী ঘুরত। মনে হতো, নাটকের মতো আমাদের গল্পেও সব বাধা পেরিয়ে শেষটা হয়তো রঙিন আর পূর্ণতায় ভরা হবে।
সেই বিশ্বাস থেকেই তার জন্য নিজের সবকিছু বাজি রেখেছিলাম। জীবনের ভবিষ্যৎ, পড়াশোনা, ক্যারিয়ার—সবকিছু একপাশে সরিয়ে রেখে সেদিন কেবল একটা মানুষের টানে ছুটে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, দুটো মানুষ একসাথে থাকলে আর ভালোবাসায় সততা থাকলে শূন্য পকেটেও পৃথিবী জয় করা সম্ভব।
কিন্তু নাটকের শেষ দৃশ্য আর বাস্তব জীবনের মাঝে আকাশ-পাতাল তফাত থাকে। নাটকে যেমন ঝড়-ঝাপটার পর শেষটা সুখে কাটে, বাস্তব জীবনে তা হলো না। যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, তখন সে তার বোনের সংসার বাঁচানোর দোহাই দিল। পরিস্থিতির অজুহাত দেখিয়ে, পকেটের শূন্যতার ভয় আর নিজের নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে সে অন্য কারো হাত ধরে চলে গেল।
যার জন্য সব ছেড়ে এসেছিলাম, সে খুব সহজেই আমায় ছেড়ে দিল। বুক ফেটে হাহাকার উঠেছিল ঠিকই, কিন্তু গল্পের সবচেয়ে অদ্ভুত মোড় আসলো কিছুদিন পর—যখন সে আবার ফিরে এসে বলল, সে নাকি ভুল করেছিল, এখন আবার আমার কাছেই ফিরে আসতে চায়!
কিন্তু নাটকের মতো বাস্তব জীবনে সবকিছু আবার প্রথম থেকে শুরু করা যায় না। ততদিনে মোহের পর্দাটা একদম সরে গেছে। খুব স্পষ্ট বুঝে গিয়েছিলাম—যে মানুষটা শূন্য পকেটে কিংবা কঠিন মুহূর্তে হাত ছেড়ে দিতে পারে, ভালো সময়ে এসে পাশে বসার যোগ্যতা তার নেই।
নাটকের গল্পে হয়তো শেষ পর্যন্ত কাজল চোখের মেয়েটি তার ভালোবাসার মানুষের কাছেই ফিরে গিয়ে পূর্ণতা পায়। কিন্তু আমার বাস্তব গল্পে কাজল চোখের মেয়েটি পূর্ণতা পায়নি; সেখানে জয় হয়েছে আত্মসম্মানের। আমি তাকে আর একসেপ্ট করিনি। কারণ যে মানুষ শূন্যতায় পাশে থাকে না, সে কখনোই সত্যিকারের ভালোবাসার হতে পারে না। 🥹❤️🩹🥀
2026-07-29 07:39:49