@uponnash_8: আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে সিজন ৪ পর্ব ৯৪। লেখিকা ফারজানা মণি #আমৃত্যু_ভালোবাসি_তোকে❤️❤️ #পর্ব_৯৪ #uponnash_8 কাশি কিছুটা কমে আসতেই তৃধা আবারও সামনে তাকালো। ঠিক তখনই মিলন ঘটলো দুই জোড়া চোখের। চোখে চোখ পড়তেই আহিয়ান চোখ নামিয়ে নিল কিন্তু তৃধা চোখ না নামিয়ে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইল তার সামনে থাকা বেইমান পুরুষটির দিকে। তৃধার কেন জানি প্রচন্ড কান্না পাচ্ছে। সে নিজেকে কিছুতেই সামলাতে পারছে না। না চাইতেও দুই ফোঁটা চোখের পানি গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ল ভাতের প্লেটে। তানভীর আতকে উঠে বলল: এখনো কষ্ট হচ্ছে মামমাম? তোর চোখ লাল হয়ে পানি পড়ছে.. তৃধা ঠোঁটের কোনে মৃদু হাসির রেখা টেনে আহিয়ানের দিকে তাকিয়েই বলল: হ্যাঁ পাপা কষ্ট হচ্ছে তবে আগের থেকে অনেক কম.. আহিয়ার কেন জানি মনে হল তৃধা এই কথাগুলো তার ভাইকে বলছে। ভাইয়া যেহেতু দেশে ফিরে এসেছে এরা নিজেদেরটা নিজেরাই সব ঠিক করে নেবে। ভেবেই আহিয়া নিজের খাওয়ায় মনোযোগ দিল। তৃধা ঝটপট অল্প কিছু খেয়ে নিজের রুমে চলে গেল। যাওয়ার আগে আহিয়া কে শীতল কন্ঠে বলল: আপু সকালে কথা হবে এখন রুমে যাই ঘুম পাচ্ছে। আহিয়া বুঝলো মেয়েটার ব্যাকুলতা। তাই আর কথা বাড়ালো না। তৃধা রুমে প্রবেশ করেই দরজাটা শব্দ করে লাগিয়ে দিল। তার হাত পা অঝোরে কাঁপছে। দুর্বল শরীরটাকে বিছানায় টেনে নিতেই দুচোখে অন্ধকার নেমে আসলো। তুমি যা বলছো ভেবে বলছো তো? আবিরের রাগি কণ্ঠস্বর শুনেও আজকে আহিয়ান থামলো না। স্পষ্ট কণ্ঠে জবাব দিল: জ্বী পাপা, আমি ভেবেচিন্তেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি , আমি বাংলাদেশে থেকেই ইন্টার্নশিপ করবো। আমি ইতিমধ্যেই আমার MBBS সার্টিফিকেট ফর্মালিটির জন্য জমা দিয়ে দিয়েছি। আবির: তুমি এত বড় একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমাকে একবার জানানোর প্রয়োজন মনে করলে না? আহিয়ান: আমি ভাবতে পারিনি পাপা আমি দেশে ফেরায় তুমি এতটা রাগ করবে.. আবির শান্ত দৃষ্টিতে তাকালো ছেলের দিকে। অতঃপর স্বাভাবিক কণ্ঠে বললো: দেখো আহিয়ান তোমার দেশে ফেরাতে আমার কোন সমস্যা নেই। কিন্তু আমি চেয়েছিলাম পুরো লেখাপড়া যেহেতু লন্ডনে করেছো, এক বছর ইন্টার্নশিপও সেখান থেকেই করে পরিপূর্ণ ডক্টর হয়ে ফিরে আসো। আহিয়ান পাপাকে বোঝানোর ভঙ্গিতে বলল: পাপা, তোমরা সবাই চলে এসেছো দুই বছর হলো। এর মাঝে আহিয়াও চলে আসলো। এখন সত্যিই আমার লন্ডনে একা ভালো লাগছে না। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি ইন্টার্নশিপ বাংলাদেশে থেকেই করব। আমি কিছু বেস্ট হসপিটালে এপ্লাই করেছি। আশা করছি ভালো একটা হসপিটালে চান্স পাব ইনশাআল্লাহ। আবির মুখ গম্ভীর করে বলল: as you wish.. বলেই হনহন পায়ে বেরিয়ে গেল ছেলের রুম থেকে। মেঘ এতক্ষণ নীরব দর্শক ছিলেন। স্বামী চলে যেতেই মেঘ ছেলের কাছে এগিয়ে গেল। অতঃপর খুশি মনে ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল: তুই ফিরে এসে ভালো করেছিস আব্বা। কত শুকিয়ে গেছিস এই দুই বছরে। আহিয়ান মৃদু হেসে জবাব দিলো: thank you মাম্মা। অন্তত তুমি তো আমায় একটু বুঝলে। তৃধার ঘুম ভাঙলো বেলা ১২:০০ টায়। ভোর রাতের ঘটনাগুলো এখনো তার স্বপ্নের মত লাগছে। ওয়াস রুমে ঢুকে ঝটপট শাওয়ার নিয়ে গেল আহিয়ার রুমের দিকে। আসবো? তৃধার কণ্ঠস্বর পেয়ে আহিয়া পেছনে ফিরে তাকালো। সে মূলত ব্যালকনিতে ভেজা তাওয়াল শুকাতে দিচ্ছিল। তৃধাকে দেখে মৃদু হেসে রুমে আসলো। তৃধা আচমকা ছুটে গিয়ে বোনকে জড়িয়ে ধরল। তৃধার এমন কাজে আহিয়া কিছুটা ভরকে গেল। তৃধা খুশিতে হাসতে হাসতে আঁচমকা কেঁদে দিল। আহিয়া বুঝলো না তৃধার এমন ব্যবহারের কারণ। উতলা হয়ে বোনকে জিজ্ঞাসা করল: কিরে কি হয়েছে? এভাবে কান্না কেন করছিস? তৃধা ফুপাতে ফুপাতে বলল: আমি তো ঘুম থেকে উঠে ভেবেছিলাম এগুলো সব স্বপ্ন ছিল.. কিন্তু এখন তো দেখলাম তুমি সত্যিই চলে এসেছে। আমি অনেক খুশি হয়েছি আপু.. আহিয়া চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে বলল : খুশি হওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো.. কিন্তু আমি কি এটা জানতে পারি আপনি এত খুশি কাকে দেখে হয়েছেন? আমাকে নাকি আমার ভাইয়াকে? কথাটা কর্ণ কুহুরে পৌঁছানো মাত্রই তৃধা খানিকটা লজ্জা পেল অতঃপর অভিমানে মুখ শক্ত করে বলল: আমি শুধু তোমাকে দেখেই খুশি হয়েছি। অন্য কাউকে নিয়ে আমার মাথা ব্যথা নেই। আহিয়া ভাবুক ভঙ্গিতে বলল: ওওও.. তাই?? কে যেন আমার ভাইয়ের জন্য লেখাপড়া, খাওয়া-দাওয়া সব ছেড়ে সন্ন্যাসী হয়েছিল? চলবে...... প্রিয় উপন্যাস প্রেমিরা আপনারা সবাই আমার জন্য ইকটু দোয়া করবেন যেনো আমি তারা তারি সুস্থ হয়ে জায় 🤲🤲☺️....