md.rakibul9x :
২০২০ সালের ২৬শে মার্চ—আমাদের ভালোবাসার গল্পের শুরুটা হয়েছিল এই দিনটিতে। তখন কে জানত, এই সাধারণ একটা তারিখ আমাদের জীবনের সবচেয়ে অসাধারণ এবং আবেগময় অধ্যায় হয়ে উঠবে! লকডাউন বা চারপাশের সেই থমথমে পরিবেশের মাঝেও আমাদের মন একে অপরকে খুঁজে পেয়েছিল। সেদিন আমাদের যে পথ চলা শুরু হয়েছিল, তা ছিল এক অদ্ভুত শান্তির অনুভূতি। মনে হচ্ছিল, পুরো দুনিয়া একদিকে আর আমাদের এই ছোট্ট পৃথিবীটা অন্যদিকে।
দিনগুলো খুব দ্রুত কেটে যাচ্ছিল। ভালোবাসার গভীরতা বাড়ছিল দিনে দিনে। কিন্তু কারোরই জানা ছিল না যে আমাদের এই সুন্দর গল্পের ভাগ্যে কী লেখা আছে। কেটে গেল বেশ কয়েকটি বছর। ২০২৩ সালের ২৭শে মার্চ—আমার জীবনের সবচেয়ে বড় একটা কঠিন পরীক্ষার দিন চলে এল। জীবিকার টানে, ভবিষ্যতের আশায় আমাকে দেশ ছেড়ে সুদূর প্রবাসে পাড়ি জমাতে হলো। এয়ারপোর্টে দাঁড়িয়ে তাকে বিদায় জানানোটা ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে কষ্টের কাজ। সে কেঁদেছিল, আমিও নিজেকে সামলাতে পারিনি। কিন্তু তখন বুকভরা আশা ছিল—দূরত্ব যতই হোক, ভালোবাসা তো কমবে না!
প্রবাসের মাটিতে পা রেখেই শুরু হলো আরেক যুদ্ধ। কাজের ব্যস্ততা, ঘাম ঝরানো পরিশ্রম আর দেশের জন্য বুকফাটা দীর্ঘশ্বাস—সবকিছুর মাঝেও একটাই সান্ত্বনা ছিল, সে আমার অপেক্ষায় আছে। আমি তো তাকে এক মুহূর্তের জন্যও ভুলিনি, বরং প্রতিটা সেকেন্ড তার কথা ভেবেছি। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর খেলা হয়তো অন্যকিছু ঠিক করে রেখেছিল।
প্রবাসে আসার কিছুদিন পর থেকেই তার আচরণে এক অদ্ভুত পরিবর্তন লক্ষ্য করলাম। কথায় কথায় দূরত্ব তৈরি হতে লাগল, যোগাযোগ কমে গেল। আমার মন বারবার একটা অদৃশ্য ভয়ে কেঁপে উঠছিল। অবশেষে এল সেই ভয়ংকর দিনটি—যেদিন খবর পেলাম, তার পরিবার জোর করে তাকে অন্য কোথাও বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে।
মাথার ওপর আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা হলো। আমি প্রবাসের চার দেওয়ালের মাঝে পাগলপ্রায় হয়ে গেলাম। শত মাইল দূর থেকেও তাকে রক্ষা করার আকুতি ছিল আমার মনে। আমি বারবার তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম, আমার কাছে ফিরে আসতে বললাম। কিন্তু সব চেষ্টার ফল হলো শূন্য। সে আমার লাখো চেষ্টার পরও কোনো প্রতিবাদ করল না। পরিবার যা চাইল, সে বিনা বাক্যে তাই মেনে নিল।
সবচেয়ে বড় কষ্টটা কোথায় জানো? সে নিজের ইচ্ছাতেই এই বিয়েতে রাজি হয়েছিল। সে কখনোই আমাকে মন থেকে ভালোবাসেনি, হয়তো আমার সরল ভালোবাসাকে সে শুধুই একটা সময় কাটানোর মাধ্যম ভেবেছিল। কিন্তু আমি? আমি তো তাকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবেসেছি
2026-08-08 07:05:19