@provaah1: #হৃদয়ের_শীতল_হাওয়া #লেখিকা_নাজিয়াত_সুলতানা_প্রভা পর্ব ২৮ বিথি বেগম : মাহিন এদিকে এসো বাবা। মাহিন ~আচ্ছা আন্টি চল। বিথি বেগম মাহিন কে নিয়ে রান্না ঘরে চলে যায়। মাহিন ~ কি বলবে আন্টি? বিথি বেগম : কাল বা পরশু তো নূর কে দেখতে আসবে। তুই তো জানিস। আমি তোর আম্মু কে বলেছি যেন এই সময়টাতে তোরা আমাদের বাড়িতেই থাকিস। তোর আম্মু চলে এসেছে তুইও আর কোথায় যাস না। মাহিন : কিন্তু আন্টি! বিথি বেগম : কোনে কিন্তু নয় এখন যাও আমার কাজ আছে। মাহিন " আচ্ছা আন্টি নোভার আম্মু যেহেতু বলেছে তাহলে তাকে থাকতেই হবে আর তাছাড়া মাহিনের আম্মুও তো থাকবে তাই সে না করে নি। "~নূর আর নোভা দুবোন তাদের তো ভাই. নেই তাই মাহিন কে তারা আপন ভাই মনে করে। মাহিন এ দুদিন অনেক কাজ করেছে। কারন এ বাড়িতে প্রথম কোনো মেয়ে কে দেখতে আসছে তাই পিপারেশনের একটা ব্যাপার আছে। আর মাহিনের জন্যও এটা নতুন। তার তো আপন বোন নেই। তেমন ধারনা নেই। কিন্তু বিথি বেগম যা যা বলেছে মাহিন তা অক্ষরে অক্ষরে শুনেছে তাই ও রকম কষ্ট হয়নি। "আজকে বিকেলেই তারা দেখতে আসবে। বিথি বেগম বলেছে দুপুরের আগে আসতে। তারা চায় দুপুরের খাবার টা নতুন আত্মীয় দের কে খাওয়াতে। ছেলের মা আগেই বলেছে যে তারা নামে দেখতে আসবে। যদি সম্ভব হয় কাবিন করে যাবে। মেয়ে তারা আগেই দেখেছে। মাহিনের এখন আর কাজ নেই। যা করার সব মহিলারা করবে মাহিনকে বিথি বেগম বলেছে ঘুমাতে। মাহিন কাল রাতে ঘুমাইনি যদি এখনও না ঘুমায় তাহলে শরীর খারাপ করবে তাই রুমে চলে যায় ঘুমানোর জন্য। তার মাথায় একটা জিনিস খুবই ভাবাচ্ছে। সেটা হচ্ছে এই দুইটা দিনে একটা বারের জন্য আদিবা তার সাথে কথা বলেনি। ব্যাপারটা খুব সিরিয়াস। সাধারণত আদিবা এই মহা সু্যোগ কখনই হাতছাড়া করবে না। তাহলে কি আদিবা সেদিন কার কথায় কষ্ট পেয়েছে। মাহিন আর কিছু না ভেবে রুমের দরজায় দাড়িয়ে বিথি বেগম কে ডেকে বলে মাহিন : আন্টি আদিবাকে দিয়ে আমার জন্য এক কাপ কপি পাঠান আমার মাথাটা ধরেছে। এ বলে সে দরজা কোলা রেখেই গোসল করতে ওয়াশরুমে ঢুকে যায়। সে জানে আদিবা নিশ্চিত আসবে। এদিকে নূরকে ধরে ঘিরে আছে নোভা আর আদিবা। তারা জানতে চায় যে তাদের সাথে নূরের কিভাবে পরিচয় হলো নোভা : আপু প্লিজ বল না কিভাবে তারা তোমাকে চিনে। আদিবা তার চোখের চশমাটা আরেকটু ঠিক করে বলে :" হ্যা আপু বল না। নূরের লজ্জা লাগছে। নূর : তোরা এত কিছু যেনে কি করবি জানার দরকার নেই "নোভা জানে তার বোন এত সহজে বলবে না তাই সে অন্য বুদ্ধি খাটায়। নোভা : তুইও না আদু কি না কি বলিস। একটা মেয়ে কিভাবে তার ছোট বোনদের সামনে প্রেমের কথা বলবে বল। হয়তো তার প্রেমিক মানা করেছে তাদের সম্পর্কের কথা না বলতে। নূর : মোটেও না এসব কি বলছিস নোভা আমি এমন না আর প্রেমিক মানা করবে মানে। প্রেমিক তাকলে তো মানা করবে আমি কোনো রিলেশনে নেই সেটা তো তোরা জানিস তবুও বাজে কথা কেন বলছিস। আদিবা : আপু এখন তো আমরা বলছি কিছুক্ষণ পর দেইখো পাড়া প্রতিবেশিও বলবে। এর একটাই কারন, তারা তো আর সত্যি টা জানে না। তাই নূর : না না আমি এসবে নেই। আসল কথা হচ্ছে আমি যেদিন ডাকায় পরিক্ষা দিতে গিয়েছিলাম সেদিন বাসে একটা আন্টির সাথে দেখা হয়েছিলো। প্রথমে কেও কারো সাতে কথা বলি নি। কিছুক্ষন পর দেখি একটা ছিনথাই কারি তার ফোন নিয়ে চলে যাচ্ছিলো, আমি এটা দেখে চিৎকার দিয় এবং সবাই বলি যে ও চুরি করেছে। তারপর ফোনটা উদ্ধার করে তাকে পিরত দিয়ে দিয়। তখন আন্টির সাথে টুুকটাক কথা হয়। উনি আমার নাম্বার চেয়েছি। আমি না করিনি আমার টা না দিয়ে আম্মুরটা দিয়ে এসেছি। এখন শুনেছি উনার ছেলের জন্য আমকে দেখতে আসবে আজকে ব্যস এটাই। এক নিশ্বাসে কথা গুলো বলে থামে নূর। নোভা : আপু তোমাদের কাহিনি টা পুরো উপন্যাসের মতো। আদিবা : তাই নাকি মেহু : হ্যা একদম উপন্যাসের মতো এবার নায়কের মতো জিজু হলেই হলো। দরজা খুলে মেহু ভিতরে ঢুকে বলতে থাকে। নূর : মেহু ইদানিং তুই কিন্তু অনেক পাকা কথা বলছিস আদিবা : জি আপু মেহু আমার একটা কথাও শুনে না। নূর : ও মার অনেক দিন যাবত খায় না তাই এমন করছে। মেহু ওদের কথা শুনে মুখ ভ্যাঙায়। নোভা : যা বাবা তোরা এই নিষ্পাপ বাচ্চাটাকে সবাই মিলে এভাবে বকছিস কেন আজব "এই মেহু আপির কাছে আয় তুই " আদুরি শুরে ডাক পেয়ে মেহু নোভার কাছে চলে যায় নোভা মেহুর হাত দুটোকে হালকা ভাবে ধরে বলে "এদের কেন কথা বলিস মেহু, এদের সাথে আমাদের ম্যাচ হয় না কোনো কিছু এরা এদের মতে থাকুক আমরা আমাদের মতো থাকি কেমন। মেহু : হুম আপি নূর ; নোভা আমি বলে দিচ্ছি তোকে একটা কথা তোর আশকারা পেয়ে পেয়ে মেহু কিন্তু খুব বেয়াদব হয়ে যাচ্ছে। কথা টি মেহুর কানে আসতে মুখ ফুলিয়ে পেলে আদিবাও তাল মিলিয়ে বলে "হুম আপু মেহু দিন দিন অনেক খারাপ হয়ে যাচ্ছে। মেহু : হয়েছে আর কথা না বলে মাহিন ভাইয়ার কাছে যাও উনি বলেছে তোমাকে কপি দিয়ে আসতে। আদিবা : আমি পারব না তুই দিয়ে আয় মেহু : তোমাকে বলেছে তুমি যাও। তাড়াতাড়ি যাও ভাইয়ার মাথা ব্যাথা করছে। " চলবে...!