@doxinhodaynee001: Cidagan #xuhuong #review

Thuý Nhi
Thuý Nhi
Open In TikTok:
Region: VN
Saturday 08 August 2026 12:23:42 GMT
313
15
0
0

Music

Download

Comments

There are no more comments for this video.
To see more videos from user @doxinhodaynee001, please go to the Tikwm homepage.

Other Videos

অপ্রত্যাশিত বন্ধন পার্ট–৩৬ —— মানুষ কখনো কখনো জায়গার প্রেমে পড়ে। কিন্তু তার থেকেও বেশি— মানুষ প্রেমে পড়ে কিছু মুহূর্তের। কিছু হাসির। কিছু মানুষের। আর সেই মুহূর্তগুলো যদি প্রিয় মানুষদের সঙ্গে তৈরি হয়, তাহলে সেগুলো স্মৃতি হয়ে সারাজীবন থেকে যায়। সকালের নাস্তার টেবিলে আজ নাজিয়া রহমানের মুখে রহস্যময় হাসি। আরহাম ভ্রু কুঁচকে বলল, —
অপ্রত্যাশিত বন্ধন পার্ট–৩৬ —— মানুষ কখনো কখনো জায়গার প্রেমে পড়ে। কিন্তু তার থেকেও বেশি— মানুষ প্রেমে পড়ে কিছু মুহূর্তের। কিছু হাসির। কিছু মানুষের। আর সেই মুহূর্তগুলো যদি প্রিয় মানুষদের সঙ্গে তৈরি হয়, তাহলে সেগুলো স্মৃতি হয়ে সারাজীবন থেকে যায়। সকালের নাস্তার টেবিলে আজ নাজিয়া রহমানের মুখে রহস্যময় হাসি। আরহাম ভ্রু কুঁচকে বলল, — "আম্মু, কিছু একটা তো আছেই।" নাজিয়া রহমান হাসলেন। — "আছে তো অবশ্যই।" সাদমান রহমান চায়ের কাপ নামিয়ে বললেন, — "আমরা কয়েকদিনের জন্য ঘুরতে যাচ্ছি। আয়রার চোখ আনন্দে বড় হয়ে গেল। — "সত্যি?" — "হুম।" — "কোথায় যাচ্ছি?" নাজিয়া রহমান মুচকি হেসে বললেন, — "সাজেক।" — "সাজেক!" আয়রার চোখে শিশুর মতো উচ্ছ্বাস ফুটে উঠল। আরহাম চুপচাপ তার হাসিমাখা মুখটার দিকে তাকিয়ে ছিল। এই মেয়েটা খুশি হলে পুরো পৃথিবীটা যেন একটু বেশি সুন্দর লাগে। দুই দিন পর। ভোরবেলা। রহমান পরিবারের গাড়ি পাহাড়ি রাস্তা ধরে এগিয়ে চলেছে। জানালার বাইরে সবুজ পাহাড়। মেঘ। কুয়াশা। আর অসাধারণ সুন্দর প্রকৃতি। আয়রা জানালার পাশে বসে শিশুর মতো সবকিছু দেখছিল। — "দেখুন! মেঘ!" আরহাম হেসে বলল, — "মেঘ তো আকাশেই থাকে।" — "না, এটা আলাদা।" — "এগুলো হাত দিয়ে ছোঁয়া যায় মনে হচ্ছে।" তার চোখের উজ্জ্বলতা দেখে আরহাম হেসে ফেলল। নাজিয়া রহমান মুচকি হেসে সাদমান রহমানকে বললেন, — "আমাদের মেয়েটা এখনও ছোটই রয়ে গেছে।" সাজেকে পৌঁছাতে বিকেল হয়ে গেল। রিসোর্টের সামনে দাঁড়িয়ে আয়রা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। চারদিকে শুধু পাহাড় আর মেঘ। — "এটা সত্যিই সুন্দর।" আরহাম ধীরে বলল, "হুম।" তারপর আয়রার দিকে তাকিয়ে যোগ করল, — "খুব সুন্দর।" আয়রা বুঝে ফেলল কথাটা পাহাড়কে বলা হয়নি। তার গাল হালকা লাল হয়ে উঠল। সন্ধ্যায় সবাই মিলে পাহাড়ের ধারে বসে সূর্যাস্ত দেখছিল। আকাশ ধীরে ধীরে কমলা আর লাল রঙে ভরে উঠছে। আয়রা ধীরে বলল, — "জানেন, আমি ছোটবেলায় স্বপ্ন দেখতাম এমন একটা জায়গায় আসার।" — "আর এখন?" — "এখন মনে হচ্ছে স্বপ্নটা পূরণ হয়ে গেছে।" আরহাম মুচকি হেসে বলল, — "তাহলে একটা নতুন স্বপ্ন দেখো।" "কী স্বপ্ন?" "যেটা আমরা একসাথে পূরণ করব।" আয়রা তার দিকে তাকিয়ে রইল। --- রাতে সবাই একসাথে ডিনার করছিল। ইমরানও আজ তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। — "ভাই, তুই তো একদম বদলে গেছিস।" ইমরান মজা করে বলল। — "কেন?" — "আগে তুই কারও ছবি তুলতে চাইতিস না।" — "আর এখন গত এক ঘণ্টায় ভাবীর দশটা ছবি তুলে ফেলেছিস।" আয়রা হেসে ফেলল। আরহাম গম্ভীর মুখ করে বলল, — "প্রমাণ আছে?" — "মোবাইলে সব আছে।" পুরো টেবিল হাসিতে ভরে উঠল। রাতে বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল আয়রা। নিচে মেঘ ভেসে যাচ্ছে। উপরে অসংখ্য তারা। ঠিক তখনই পাশে এসে দাঁড়াল আরহাম। — "আজকের দিনটা কেমন ছিল?" আয়রা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, — "মনে রাখার মতো।" — "কেন?" — "কারণ জায়গাগুলো সুন্দর হতে পারে।" — "কিন্তু মানুষ না থাকলে স্মৃতিগুলো সুন্দর হয় না।" আরহাম মৃদু হেসে বলল, তাহলে আজকের স্মৃতিটা সুন্দর হয়েছে? আয়রা তার দিকে তাকিয়ে বলল, — "অনেক।" হালকা বাতাস বইছিল। দূরে পাহাড়ের ওপর চাঁদের আলো পড়ছে। আরহাম ধীরে বলল, — "জানো, আমি আগে ভাবতাম সুখ মানে সাফল্য।" — "এখন মনে হয় সুখ মানে হয়তো এরকম কিছু মুহূর্ত।" — "প্রিয় মানুষদের সঙ্গে কাটানো কিছু সাধারণ সময়।" আয়রা মুচকি হাসল। সাজেকের পাহাড় সাক্ষী হয়ে রইল— দুটি মানুষের ধীরে ধীরে আরও কাছাকাছি চলে আসার। কারণ কিছু ভ্রমণ শুধু নতুন জায়গা দেখায় না। কিছু ভ্রমণ মানুষকে তার নিজের হৃদয়টাকেও নতুন করে চিনিয়ে দেয়। —— মেঘের দেশে হারিয়ে যাওয়া দুপুর কিছু জায়গা মানুষের মনে থেকে যায়। আর কিছু মুহূর্ত মানুষের হৃদয়ে। সাজেক যেন দুটোই একসাথে। পাহাড়ের গায়ে ভেসে বেড়ানো মেঘগুলো যেন আকাশ থেকে নেমে এসে পৃথিবীকে আলতো করে জড়িয়ে ধরেছে। আর সেই মেঘের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিল আরহাম আর আয়রা। সকালের সূর্য তখনো পুরোপুরি জেগে ওঠেনি। পাহাড়ের চূড়ায় কুয়াশার চাদর বিছিয়ে আছে। দূরে দূরে সাদা মেঘগুলো ভেসে বেড়াচ্ছে। আয়রা বারান্দায় দাঁড়িয়ে মুগ্ধ হয়ে সবকিছু দেখছিল। তার চুলগুলো হালকা বাতাসে উড়ছিল। চোখদুটো ভরা বিস্ময়ে-- ঠিক তখনই পিছন থেকে ভেসে এলো পরিচিত কণ্ঠ। — "ঘুমাওনি নাকি?" আয়রা পিছনে তাকিয়ে মুচকি হাসল। — "এত সুন্দর জায়গায় এসে ঘুমিয়ে সময় নষ্ট করতে ইচ্ছে করছে না।" আরহাম তার পাশে এসে দাঁড়াল। — "চলো হাঁটতে যাই?" আয়রার চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। — "এখনই?" — "হুম।" — "মেঘগুলোকে এত কাছ থেকে দেখার সুযোগ তো রোজ পাওয়া যায় না।" কিছুক্ষণ পর দুজন পাশাপাশি হাঁটছিল পাহাড়ি পথে। চারপাশে সাদা মেঘ। সবুজ পাহাড়। আর নীরবতা। আয়রা দুহাত ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে বলল, — "মনে হচ্ছে আমি মেঘের ভেতর দাঁড়িয়ে আছি।" আরহাম হেসে বলল, — "তুমি এখন ঠিক ছোট্ট বাচ্চাদের মতো আচরণ করছো।" আয়রা ভ্রু কুঁচকে বলল, — "আপনি কি বলতে চাইছেন আমি বাচ্চা?" — "না।" — "আমি বলতে চাইছি তুমি খুশি হলে তোমার চোখ দুটো অন্যরকম হয়ে যায়।" আয়রা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। কেমন? আরহাম তার দিকে তাকিয়ে বলল, অনেক সুন্দর। চলবে.

About