nishe Rahman :
আমি জানি না সাদিয়া তুই কি আমার ভিডিও দেখছিস কি না, বা তোর কোনো টিকটক আইডি আছে কি না। কিন্তু আজ কিছু কথা বলতে ইচ্ছে হলো।২০২১ সালে আমাদের বন্ধুত্বের শুরুটা হয়েছিল। দেখতে দেখতে ও আমার জীবনের এমন একটা অংশ হয়ে উঠেছিল, যাকে আমি আমার 'কলিজার টুকরা' ভাবতাম। ওরে ছাড়া আমি আসলেই কিচ্ছু বুঝতাম না। এক কথায় বলতে গেলে, ওরে আমি অন্ধের মতো ভালোবাসতাম।কিন্তু আফসোস, আমার এই ভালোবাসার মূল্য ও কোনোদিন দেয়নি। ও আমাকে প্রায়ই অনেক অপমান করত, সবার সামনে অনেক ছোট করে কথা বলতো। তার পরেও আমি কোনো এক অজানা টানে বেহায়ার মতো ওর পেছনেই পড়ে থাকতাম। দিনের পর দিন ওর অবহেলা সহ্য করেছি। আমি মেসেজ দিলে ও দেখতও না, আর কখনো দেখলেও কোনো রিপ্লাই দিত না।সবচেয়ে কষ্টের বিষয় ছিল, তখন আমার নিজের কোনো মোবাইল ছিল না। আমি কখনো আমার আব্বুর মোবাইল দিয়ে, কখনো আমার ভাইয়ের মোবাইল দিয়ে, এমনকি কখনো আমার আন্টির মোবাইল দিয়েও ওরে কল দিতাম। ও একটা বারও বুঝত না যে আমার তো নিজের কোনো মোবাইল নাই, আমি যখন-তখন চাইলেই ওরে কল দিতে পারতাম না। অনেক কষ্ট করে অন্যের ফোন জোগাড় করে ওরে কল দিতাম। ও খুব ভালো করেই জানত যে ওর একটা মাত্র কল বা মেসেজ পেলে আমি কত্ত পরিমাণে যে খুশি থাকতাম, যা মুখে বলে বোঝানোর মতো না! এত কিছু জানার পরেও ও আমার সাথে এমন করত, আমাকে ইগনোর করত। কল রিসিভ তো করত-ই না, এমনকি পরে কখনো একটা কল ব্যাক করার প্রয়োজনও মনে করত না।একটা মানুষের পক্ষে এতটা অবহেলা আর অপমান কতদিন সহ্য করা সম্ভব? অবশেষে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে যখন আমার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল, তখন নিজের আত্মসম্মান বাঁচাতে আমি ওর সাথে অভিমান করে কথা বলা বন্ধ করে দিই।আমি চলে যাওয়ার পর ও হয়তো আমার অভাবটা বুঝতে পেরেছে। তাই অনেক মানুষকে দিয়ে, অনেকভাবে আমার সাথে আবার কথা বলানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু যে মন ও নিজ হাতে ভেঙেছে, সেখানে আর ফিরে যাওয়া সম্ভব না। তাই ও হাজার চেষ্টা করার পরেও আমি আর কোনোদিন ওর সাথে কথা বলিনি, আর বলবও না। কিছু মানুষের অবহেলাই আমাদেরকে বাধ্য করে কলিজার টুকরো মানুষকেও একসময় পর করে দিতে। সত্যি বলতে, কথাগুলো কখনো বলতে চাইনি, কিন্তু কেন জানি আজকে বলতে ইচ্ছে হলো। অনেক অভিমান নিয়ে তোর থেকে দূরে চলে আসছিলাম😌❤️🩹”
2026-08-13 04:01:01