মোঃ মিল্টন হোসেন :
যে মানুষটা নিজের ইচ্ছেতেই দূরে সরে যেতে চায়, তাকে ব্যাকুলতার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বোকামি! কত রাত নিঃশব্দে কেঁদে কেঁদে ঈশ্বরকে ডেকেছি, কতভাবে নিজের আস্ত জীবনটাকে তার পায়ের কাছে বিসর্জন দিয়েছি-যাতে সে অন্তত একবার পেছন ফিরে তাকায়! কিন্তু যার মন থেকে একবার প্রস্থান ঘটেই গেছে, তার কাছে সমস্ত আবেগ আর মায়াই স্রেফ এক দমবন্ধ করা অভিনয় বলে মনে হয়। যাকে ভালোবাসার বন্ধনে বাঁধতে চেয়েছিলাম, সে আজ আমার উপস্থিতিটাকেই নিজের স্বাধীনতায় মস্ত এক বাধা বলে মনে করছে। কতটা অসহায় হলে একটা মানুষ নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েও ভালোবাসার মানুষের চোখ দুটোতে কেবল অচেনা এক বরফশীতল নিষ্ঠুরতা দেখতে পায়!
আমি তো কোনোদিন তাকে শিকলে বাঁধতে চাইনি, চেয়েছিলাম পরম যত্নে নিজের বুকের নরমতম কোণে আগলে রাখতে। অথচ কী ভয়ংকর এক বাস্তবতা-যেখানে আমার খাঁটি অনুভূতিগুলো তার কাছে খাঁচার মতো মনে হতে শুরু করল! তাকে ধরে রাখার সব চেষ্টা আজ পৈশাচিক এক ব্যর্থতায় রূপ নিয়েছে। সে যখন নিজের ইচ্ছেতেই আমার পৃথিবীর সীমানা পেরিয়ে যেতে চায়, তখন তার পথে ভালোবাসার মায়া বিছিয়ে রাখা মানে তো নিজের আত্মসম্মানকে প্রতিদিন নিজ হাতে জবাই করা। যে হাত ছাড়িয়ে নিতে ব্যাকুল, তাকে মিছে মায়ার দড়িতে বেঁধে রাখা যায় না; কারণ সেই মায়া কেবল নিজের হাতটাকেই রক্তাক্ত করে, তাকে ফেরায় না!
আজ আর তোমায় কোনো অকারণ মায়ায় বাঁধতে যাব না প্রিয়। তোমার যাওয়ার পথটা আমি সম্পূর্ণ মুক্ত করে দিলাম। যে শিকল তুমি ভাঙতে চেয়েছ, তা আজ আমি নিজেই খুলে দিলাম। যাও, তুমি তোমার ইচ্ছেমতো ঠিকানায় ডানাকাটা পাখির মতো উড়াল দাও! তবে জেনে রেখো, একদিন যখন পৃথিবীর সমস্ত মিথ্যে আলো আর মেকি সম্পর্কের ভিড়ে তোমার দম আটকে আসবে, সেদিন হয়তো তুমি চিনে নেবে ভালোবাসার প্রকৃত ব্যাকুলতা কাকে বলে। সেদিন হয়তো বুঝবে-কাউকে মায়ায় বাঁধার চেয়ে, তীব্র মায়া থাকা সত্ত্বেও তাকে ছেড়ে দেওয়াটা কতটা ভয়ংকর আর বিষাক্ত যন্ত্রণার!
2026-08-26 04:34:35