🎴 :
রোদের তাপে পুড়ে, ঘামে ভিজে কাটে আমার প্রতিদিনের বেলা,
আমার এই কঠিন জীবনে নেই কোনো রঙের বা বিলাসের খেলা।
পায়ের নিচে শক্ত মাটি, মাথার ওপর কেবল খোলা বিষণ্ণ আকাশ,
প্রতিদিনের নিঃশব্দ যুদ্ধেই আটকে আছে আমার প্রতিটা হাু-হু শ্বাস।
বুকের গহীনে হাজারো ক্ষত চেপে মুখে এক চিলতে হাসি ধরে রাখি,
স্বপ্নের আলো নিভে গেলেও শুধু বাঁচার তাগিদে নিছক বেঁচে থাকি।
দেহে মোর ক্লান্তির তীব্র ছাপ, দুই হাতে জমেছে পাথরের মতো কড়া,
সহজ কোনো পথ পাইনি কখনো, জীবনটা যে ভীষণ কষ্টে ভরা।
আজকের ঝরানো রক্ত পানি করা ঘাম হয়তো কাল আনবে কিছুটা আলো,
এই সামান্য আশায় চূর্ণ-বিচূর্ণ মনটাকে জোর করে বাসি ভালো।
নুন আনতে পান্তা ফুরায়, তাও হারাই না বুকের হাড়ভাঙা বল,
আমার এই নিরব কষ্টের রক্তিম অর্জনেই লুকিয়ে আছে আসল সম্বল।
লোকেরা দেখে শুধুই ওপরের ছদ্মবেশ, বোঝে না ভেতরের যন্ত্রণা,
ক্লান্ত-শ্রান্ত হৃদয়টাকে প্রতিদিন দিতে হয় হাজার মিথ্যে সান্ত্বনা।
পেটের অন্ন আর সময়ের কঠোর চাপে পথ চলতে হয় প্রতিটা দিন,
বিশ্রাম কিংবা সুখের ঘুম শব্দ দুটো আমার কাছে বড্ড বেশি রঙিন।
ভাঙা ঘর, অলক্ষে ঝরা চোখের জল আর অন্তহীন কঠোর খাটুনি,
কেউ তো দেখে না পেছনের সেই হাড়ভাঙা কান্নার শক্ত বাঁধন-বাঁধুনি।
ভাগ্যের ওপর দায় চাপিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকার সময় তো নেই,
নিজের ক্ষয়ে যাওয়া হাত দুটো দিয়েই গড়ি প্রতিদিনের লড়াইটাকেই।
জীবন আমাকে বারেবারে শিখিয়েছে কীভাবে একাকী শক্ত হয়ে দাঁড়াতে হয়,
ঝড়-ঝাপটা যতই আঁকড়ে ধরুক, লড়াই করা মানুষের কোনো পতন নয়।
এই যন্ত্রণাই আমার আসল অহংকার, এই হাড়ভাঙা শ্রমই আমার পরিচয়,
একদিন থমকে দাঁড়াবে এই অন্ধকার, ঘুচবে জীবনের সব সংশয়।
পাথুরে রাস্তায় খালি পায়ে হাঁটার বেদনা কেবল আমার নিজেরই জানা,
স্বপ্নের ডানা তো কবেই ভেঙেছে, তাও উড়তে নেই আমার কোনো মানা।
ক্ষুধার তীব্র জ্বাল আর সমাজের অবহেলা সয়ে সয়ে মন হয়েছে পাথর,
কাউকে বোঝানোর প্রয়োজন নেই, আমার কষ্ট শুধুই আমার নিজেরই প্রান্তর।
অদম্য লড়াইয়ের শেষ কোথায়, তা হয়তো কোনোদিন জানা হবে না আর,
তবে হার মেনে নেওয়ার আগে ছুড়ে দেব নিজের সবটা ক্ষমতার ধার।
2026-09-10 01:07:29