Taspiya Islam Lipi :
যে বয়সে জীবনকে ভালোবাসার কথা ছিল, বুকভরে স্বপ্ন দেখার কথা ছিল, স্বাধীন পাখির মতো ডানা মেলে আকাশে ওড়ার কথা ছিল—ঠিক সেই বয়সটাতেই আজ আমি দাঁড়িয়ে আছি এক অন্তহীন শূন্যতার মাঝে। সবাই বলে, এটা নাকি জীবনের সবচেয়ে সুন্দরতম সময়! অথচ আয়নার সামনে দাঁড়ালে যে মুখটা ভেসে ওঠে, তাতে কোনো তারুণ্যের দীপ্তি নেই; আছে কেবল ক্লান্তি, একরাশ হতাশা আর দীর্ঘদিনের না-বলা কষ্টের গভীর ছাপ।
সকালের প্রথম আলো যখন ঘরের জানালা দিয়ে ঢোকে, তখন অন্য সবার মতো আমার মনে কোনো নতুন দিনের উন্মাদনা জাগে না। বরং বুকটা ভারী হয়ে আসে এক অজানা আতঙ্কে। ঠিক তখন থেকেই শুরু হয় আমার প্রতিদিনের সেই অদৃশ্য যুদ্ধ। কার বিরুদ্ধে এই লড়াই? কোনো বাইরের শত্রুর সাথে তো নয়! এই যুদ্ধ আমার নিজেরই সাথে, আমার নিজের ছায়ার সাথে, আমার ভেতরকার ভেঙে পড়া মানুষটার সাথে।
একদিকে বেঁচে থাকার তাড়না, নিজের স্বপ্নগুলোকে আগলে রাখার জেদ; অন্যদিকে প্রতিনিয়ত হেরে যাওয়ার ভয়, চরম একাকিত্ব আর চারপাশের চাপ সামলানোর অক্ষমতা। এই লড়াইয়ের কোনো শব্দ নেই, কোনো রণকৌশল নেই। এখানে কেউ ঢাল নিয়ে লড়ে না, বুক পেতে দেয় নীরবতা। কেউ দেখতে পায় না আমার এই যুদ্ধের ক্ষতগুলো। বাইরের পৃথিবীর কাছে আমি হয়তো একদম স্বাভাবিক, হাসিখুশি কিংবা গোছানো এক মানুষ। কিন্তু কেউ কি কোনো দিন জানতে চেয়েছে, এই হাসির আড়ালে প্রতিদিন আমার ভেতরটা ঠিক কতটা পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে?
যে বয়সে মানুষের ভুল করার অধিকার থাকে, স্বপ্ন দেখার স্বাধীনতা থাকে, সেই বয়সে এসে আমাকে প্রতি মুহূর্তে নিখুঁত হওয়ার অভিনয় করতে হয়। নিজের ইচ্ছেগুলোকে নিজের হাতে গলা টিপে মারতে হয়। না-বলা কথাগুলো বুকের গভীরে জমা হতে হতে আজ পাথর হয়ে গেছে। কাউকে যদি বলতে যাই, তারা হয়তো এটিকে সাধারণ বয়সসুলভ পাগলামি বা অবুঝপনা বলে উড়িয়ে দেবে। কিন্তু কেউ বুঝবে না যে, এই বয়সের কষ্টগুলো কতটা মারাত্মক হতে পারে!
নিজের সাথে প্রতিদিন এই লুকোচুরি খেলতে খেলতে আজ আমি নিজেই নিজের কাছে বড্ড অচেনা হয়ে গেছি। নিজের ভেতরের আলোটুকু তিল তিল করে নিভে যাচ্ছে, আর আমি চোখের পলকে নিজের মাঝেই বিলীন হয়ে যাচ্ছি। এই বিশাল পৃথিবীর ভিড়ে আজ বড্ড একা আমি। কাকে গিয়ে বলবো বলো তো? কার কাঁধে মাথা রেখে বলবো যে, এই সুন্দর বয়সের খাঁচায় বন্দি হয়ে আমি আসলে প্রতিদিন একটু একটু করে মরে যাচ্ছি? 😅💔
2026-08-20 17:03:00