milar :
অ্যাডভোকেট সাহেবের মৃত্যুতে তাঁর স্ত্রীকে ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। যদিও তিন দিনের জন্য আবেদন করা হয়েছিল, কিন্তু সেই আবেদন মঞ্জুর হয়নি।
খুব অমানবিক হয়েছে তাই না? আপনি তো এটাই ভাবছেন।
কিন্তু আপনি কি জানেন, এই এরাই যখন ক্ষমতায় ছিল তখন কী কী অমানবিক কাজ করেছিল?
আসেন, দুই-একটি ঘটনা স্মরণ করি—
এক. জামায়াতের বর্তমান সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার। কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় তাঁর পিতা মারা যান। পিতার জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য তাঁকে মাত্র তিন ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
এটা কি অমানবিক ছিল না?
দুই. প্রাক্তন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা। ফাঁসি দেওয়ার পরে তাঁর পরিবার জানতে পারে, তাঁর লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরিবার তখন ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এমন মুহূর্তে ছাত্রলীগের কিছু গুন্ডাবাহিনী তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ মোল্লা সাহেবের পরিবারের ১২ জন সদস্যকে ঢাকায় গ্রেফতার করে।
তিন. সাবেক আমির শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী। সবারই তো আকাঙ্ক্ষা ছিল, সুন্দরভাবে জানাজা পড়ে মানুষটিকে শেষ বিদায় জানাবে। কিন্তু কী হলো? সুন্দরভাবে জানাজাটাও পড়তে দেওয়া হলো না। প্রশাসন নিজেই দ্রুত দাফন সম্পন্ন করলো।
চার. শহীদ আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী। মানুষটাকে চেনেন না, এমন মানুষ খুব কমই আছে। অথচ তাঁর লাশ নিয়েও করা হলো ঘৃণিত রাজনীতি। ঢাকায় একটি জানাজাও করতে দেওয়া হলো না।
সেদিন আমরা দেখেছি, একজন মজলুম সন্তানের আর্তনাদ। কীভাবে তিনি লাইভে এসে অনুরোধ জানিয়েছিলেন, আর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন, শেষবারের মতো আমার বাবার মুখটা আমাকে একটু দেখতে দিন। আমি এখন এয়ারপোর্টে আছি, দ্রুতই পৌঁছে যাব।
শামীম সাঈদীর সেই আর্তনাদ আজও আমার চোখে ভাসে।
একটা কথা আছে না; দুনিয়ার ধার, দুনিয়াতেই শোধ হয়।
তাই বলি, যারা আজ দীপু মনির মেয়েকে আদালত চত্বরে ছোটাছুটি করতে দেখে মায়াকান্না করছেন, তারা অতীতের ইতিহাসটাও একটু স্মরণ করুন। হয়তো কিছুটা শান্তি পাবেন।
অ্যাডভোকেট সাহেবের মৃত্যুতে তাঁর স্ত্রীকে ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। যদিও তিন দিনের জন্য আবেদন করা হয়েছিল, কিন্তু সেই আবেদন মঞ্জুর হয়নি।
2026-08-20 17:34:54