প্রেমের পাতা :
অয়ন যখন প্রথমবার রিয়াকে পড়াতে যায়, তখন সে ছিল প্রচণ্ড গম্ভীর। কলেজ শেষ করে সবেমাত্র এই টিউশনিটা পেয়েছিল অয়ন। আর রিয়া? পড়াশোনায় তার মনোযোগের চেয়ে জানালার বাইরের মেঘলা আকাশ আর ওড়ন্ত পাখির দিকে তাকিয়ে থাকার প্রতি টান ছিল বেশি। গণিতের জটিল সমীকরণ বোঝাতে গিয়ে অয়ন কতবার যে ধৈর্য হারিয়েছে! কিন্তু রিয়া যখন চায়ের কাপ এগিয়ে দিয়ে মিষ্টি করে বলত, "স্যার, আরেকবার একটু বুঝিয়ে দেবেন?", তখন অয়নের সব রাগ নিমেষেই মিলিয়ে যেত।
দিনগুলো এভাবেই কাটছিল। অয়নের হালকা শাসন আর রিয়ার মিষ্টি অবাধ্যতার মাঝে কখন যে একটা অচেনা টান তৈরি হয়ে গেল, তা দুজনার কেউই খেয়াল করেনি। বৃষ্টির দিনে পড়ানোর মাঝে আলো চলে গেলে তারা জানালার পাশে এসে দাঁড়াত। রিয়া বলত তার প্রিয় কবিতার কথা, আর অয়ন নিবিষ্ট মনে শুনত তার গলার মায়াবী সুর। অয়ন আস্তে আস্তে বুঝতে পারল, বইয়ের পাতা উল্টানোর চেয়ে রিয়ার চোখের রঙিন স্বপ্নগুলো দেখতে পাওয়া অনেক বেশি আনন্দের।
একদিন ফাইনাল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর রিয়া দৌড়ে অয়নের কাছে এসে দাঁড়াল। হাতে তার মিষ্টির প্যাকেট আর মুখে চওড়া হাসি। "আমি এ প্লাস পেয়েছি স্যার! আপনার শেখানো সেই কঠিন চ্যাপ্টারগুলোই আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছে।" অয়ন হেসে অভিনন্দন জানাতে যাবে, ঠিক তখনই রিয়া তার একটি ডায়েরি অয়নের দিকে এগিয়ে দিল।
ডায়েরির একটা পাতায় কোনো পড়াশোনার হিসাব ছিল না। নীল কালিতে যত্ন করে লেখা ছিল, "স্যার, আপনি তো পড়াশোনা আর জীবন দুটোই খুব সুন্দর করে বোঝান। কিন্তু এই অবাধ্য ছাত্রীর মন পড়ার চ্যাপ্টারটা কি একটু রিভিশন দেবেন?" অয়ন মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। রিয়ার চোখের দিকে তাকিয়ে সে দেখল অপার নির্ভরতা আর ভালোবাসা। অয়ন ডায়েরিটা বন্ধ করে মৃদু হেসে বলল, "মন পড়ার জন্য কোনো সূত্রের প্রয়োজন হয় না রিয়া, কেবল সত্যি ভালোবাসতে জানতে হয়।"
সেই বিকেল থেকেই পড়ানোর খাতা বন্ধ হয়ে দুজনের ভালোবাসার এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো।
গল্পটি আপনার কেমন লাগল, নাকি অন্য কোনো মেজাজের গল্প শুনতে চান?
2026-09-02 03:00:15