『ѕωg』ℙ𝕀𝕐𝔸𝕊💎ღ :
আর কত ভাগ্যের দোষ দেব? কত দোষ দেব আর নিজের কপালের? যে মানুষটা পথ চলতে গিয়ে পদে পদে কেবল হোঁচট খায়, সে একসময় ক্লান্ত হয়ে আকাশের দিকে তাকায়। কিন্তু আকাশ তো নীরব, নিথর। ভাগ্য কিংবা কপাল—এগুলো তো অদৃশ্য কিছু শব্দ মাত্র, যাদের হাত-পা নেই, মুখ নেই। অথচ সব ব্যর্থতার দায়ভার আমরা এই শব্দগুলোর ওপর চাপিয়ে দিয়ে হালকা হতে চাই। সত্যি বলতে, কপাল পোড়াতে যার জন্মের শুরু, দুনিয়াটাই তার আগুনের। যার জীবনশুরুটাই একখণ্ড জ্বলন্ত অঙ্গার দিয়ে, তার কাছে পুরো পৃথিবীটাই তো একটা উত্তপ্ত চুল্লি মনে হবে। আগুনে পোড়া মানুষ যেমন কোথাও একটু শীতল ছায়া খুঁজে পায় না, তেমনি দুঃখ যার আজন্ম সঙ্গী, তার জন্য পৃথিবীর প্রতিটি আনন্দ আয়োজনও যেন পরিহাসের মতো শোনায়।
মানুষ যখন চারপাশের মানুষ আর পরিস্থিতির কাছে হেরে যায়, তখন সে নিজেকে সঁপে দেয় এক পরম সত্তার কাছে। কিন্তু অনুভূতির গভীরতম জায়গা থেকে কখনো কখনো এক হাহাকার জেগে ওঠে—যত নত হই আমি সৃষ্টিকর্তার চরণে, পিঠে তত বোঝা ভারি চেপে ধরে জমিনে। মনে হয়, বিনয় আর প্রার্থনার হাত দুটো যত ওপরের দিকে ওঠে, কষ্টের অদৃশ্য ওজনটা যেন ততটাই চেপে বসে মাটির কাছাকাছি। সিজদায় লুটিয়ে পড়া কপালে ধূলিকণা মেখে যায়, কিন্তু মনের ভেতরের ক্ষতের উপশম হয় না। তবে কি এই বোঝাই জীবনের আসল পরিচয়? নাকি ভেঙে পড়ার শেষ সীমানায় গিয়ে দাঁড়ানোর নামই অস্তিত্বের পরীক্ষা?
আগুনের নিজস্ব কোনো শত্রু নেই, সে শুধু পোড়াতে জানে। কিন্তু যে সোনা সেই আগুনে পুড়ে খাঁটি হয়, তার মূল্য আগুন বোঝে না। কষ্টের এই ভার হয়তো আমাদের ধ্বংস করার জন্য নয়, বরং আমাদের অস্তিত্বের শিকড়কে মাটির আরও গভীরে গেঁথে দেওয়ার জন্য। কপাল পোড়া মানুষের শেষ আশ্রয় কোনো বাহ্যিক সান্ত্বনায় থাকে না; থাকে তার নিজের ভেতরের নীরব সহ্যশক্তিতে। দুনিয়ার আগুন যতই তীব্র হোক, যে মানুষটা প্রতিদিন ছাই থেকে নতুন করে উঠে দাঁড়ানোর সাহস রাখে, আগুন তাকে পোড়াতে পারলেও ছাই করে দিতে পারে না।
-------------- (পিয়াস) -----------
2026-08-29 15:50:03