@himu98i6: এই বাক্যটি কোনোদিন কোনো দেয়ালে লেখা ছিল না। কোনো বইয়ের পাতাতেও তার জন্ম হয়নি। তবু মানুষের সমস্ত ইতিহাসের ভেতর দিয়ে সে নীরবে হেঁটে এসেছে—যেমন ক্ষুধা রাজপ্রাসাদ থেকে কুঁড়েঘরে যায়, যেমন মৃত্যু কোনো দরজায় কড়া না নেড়েই একদিন ঘরে ঢুকে পড়ে। মানুষ সম্পর্ককে ভালোবাসা বলে ভুল করে। অথচ সম্পর্কের প্রথম ভাষা ভালোবাসা নয়—প্রয়োজন। তুমি যখন ভেঙে পড়ো, পৃথিবী তোমার পাশে বসতে চায় না। কারণ ভাঙা মানুষের হাতে দেওয়ার মতো কোনো উৎসব থাকে না; তার চোখে বিজয়ের আলো থাকে না, চারপাশে করতালিও থাকে না। দুঃখী মানুষ কেবল নিজের অন্ধকার নিয়ে বসে থাকে। আর অন্ধকার এমন এক আয়না, যেখানে দর্শক নিজের মুখ দেখতে ভয় পায়। সাফল্য মানুষকে আলোকিত করে না; বরং তার চারপাশের মুখগুলোকে দৃশ্যমান করে। তুমি যখন ব্যর্থ ছিলে, চারপাশের নীরবতাই ছিল সত্যের নির্মম ভাষা। আর তুমি যখন সফল হলে, সেই নীরবতা ভেঙে যারা ফিরে এলো, তারা হয়তো তোমাকে নয়, তোমার আলোকে ভালোবেসেছিল। মানুষের সবচেয়ে পুরোনো প্রতারণা হলো—সে অন্যের ফলকে নিজের সম্পর্কের প্রমাণ মনে করে। বৃক্ষ যখন ফলহীন থাকে, তার ছায়ায় খুব কম মানুষ বসে। ফল ধরলে হঠাৎ পথিকের সংখ্যা বেড়ে যায়। কেউ ফল খেতে আসে, কেউ ছায়া নিতে আসে, কেউ শুধু অন্যদের দেখে নিজেকেও আপনজন বলে পরিচয় দেয়। কিন্তু বৃক্ষ জানে—তার শিকড়ের কাছে যে মাটি ছিল, সে-ই তার আপন। কারণ মাটি কখনো ফল চায়নি; শুধু ধরে রেখেছিল। মানুষের সম্পর্কও হয়তো এমন হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু মানুষ ভালোবাসাকেও বাজার বানিয়েছে। সেখানে মমতার মূল্য নির্ধারিত হয় সুবিধা দিয়ে, বন্ধুত্বের মূল্য প্রয়োজন দিয়ে, আত্মীয়তার মূল্য উত্তরাধিকার দিয়ে। তাই পৃথিবীতে অনেক আপনজন আছে, কিন্তু আশ্রয় কম। অনেক দর্শক আছে, কিন্তু সঙ্গী কম। অনেক করতালি আছে, কিন্তু একটি নীরব হাত খুব কম। সাফল্যের দিনে যে ভিড় তোমাকে ঘিরে ধরে, তাদের দেখে আনন্দিত হওয়ার আগে পুরোনো দুঃখের দিকে তাকিও। সেখানে হয়তো কয়েকটি শূন্য চেয়ার পড়ে আছে—সেগুলোই তোমার সত্যিকারের সম্পর্কের ইতিহাস। আনন্দের ঘরে অতিথি হতে সাহস লাগে না; দুঃখের ঘরে বসে থাকতে সাহস লাগে। মানুষ মুকুট দেখতে চায়, মাথার ক্ষত নয়। তাই সাফল্য অনেক সময় আশীর্বাদ নয়—পরীক্ষা। সফল হওয়ার পর দেখবে, যাদের হারিয়েছ তাদের চেয়ে বেশি হয়ে গেছে তারা, যারা তোমাকে ফিরে পেতে চায়। তখন বুঝবে, মানুষ তোমাকে হারায় না; মানুষ তোমার প্রয়োজন হারায়। আর প্রয়োজন ফিরে এলে মানুষও ফিরে আসে। কিন্তু প্রত্যাবর্তন মানেই ভালোবাসা নয়। কেউ কেউ ফিরে আসে শুধু নিশ্চিত হতে—তুমি সত্যিই তাদের ছাড়া বেঁচে গেছ কি না। তখন মানুষকে ঘৃণা করতে ইচ্ছে করে। কিন্তু ঘৃণাও এক ধরনের বন্ধন। তাই তাকে ঘৃণা করো না; শুধু তাকে তার প্রকৃত জায়গায় বসিয়ে দাও। যে দর্শক, তাকে দর্শকই থাকতে দাও। সবাইকে আপন করতে গিয়ে নিজের দরজা ভেঙে ফেলো না। কারণ দরজা শুধু প্রবেশের সুযোগ দেয় না; কখনো কখনো দূরত্ব রক্ষার জন্যও তৈরি হয়। জীবনের শেষদিকে এসে মানুষ বুঝতে পারে—একাকিত্ব সবসময় শাস্তি নয়। কখনো একাকিত্ব ঈশ্বরের মতো একটি আয়না, যেখানে কোনো দর্শক নেই, কোনো করতালি নেই, কোনো মিথ্যা প্রশংসা নেই। সেখানে তুমি শুধু তুমি—তোমার ক্ষত, তোমার ভয়, তোমার ব্যর্থতা, তোমার অপরাধ, আর সেই অদৃশ্য আত্মা, যাকে সারাজীবন অন্যের চোখে সুন্দর দেখানোর চেষ্টা করেছিলে। সেই রাতে হয়তো তুমি প্রথমবার বুঝবে—আপনজন সে নয়, যে জীবনের উৎসবে সবচেয়ে সামনে দাঁড়ায়। আপনজন সে, যে পতনের সময় তোমার পাশে বসে বলে, “উঠতে হবে না। আজ শুধু বসে থাকো। আমি আছি।” এই “আমি আছি”—মানুষের ইতিহাসের সবচেয়ে বিরল বাক্য। কারণ মানুষ তোমার প্রয়োজনের সময় থাকে; কিন্তু যে তোমার প্রয়োজন না থাকলেও থাকে, সে-ই ভালোবাসে। শেষ পর্যন্ত জীবন শেখায়—সাফল্য দিয়ে আপনজন কেনা যায় না। সাফল্য শুধু মুখোশ খুলে দেয়। কে তোমার জন্য কাঁদে, কে অপেক্ষা করে, কে তোমার পতনে নীরব হয়, কে তোমার বিজয়ে সত্যিই আনন্দিত হয়—এসবের কোনো ঘোষণা লাগে না। সময় নিজেই সব বলে দেয়। একদিন যখন তোমার চারপাশে ভিড় হবে, করতালি উঠবে, তখন খুঁজবে সেই মানুষটিকে, যে তোমার ব্যর্থতার দিনেও তোমাকে মানুষ হিসেবেই দেখেছিল। সে থাকলে তুমি সত্যিই ধনী; না থাকলে ভিড়ের মধ্যেও তুমি একা। কারণ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নিঃসঙ্গতা মানুষের অনুপস্থিতি নয়; ভুল মানুষদের উপস্থিতি। আর সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য হলো এমন একজন মানুষ থাকা, যার কাছে তোমার সাফল্য কোনো কারণ নয়, দুঃখ কোনো বোঝা নয়, ব্যর্থতা কোনো লজ্জা নয়, আর অস্তিত্বের জন্য কোনো প্রমাণের প্রয়োজন নেই। সেই মানুষ দর্শক নয়। সেই মানুষ—ঘর। সম্পূর্ণ লেখাটা দিতে পারলাম না কারণ চার হাজার অক্ষর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। লেখক আরফান সাদিক হিমু #bangladesh #caption #stutas #foryou

কবি হিমু📒
কবি হিমু📒
Open In TikTok:
Region: SA
Saturday 29 August 2026 17:05:37 GMT
38310
1717
16
131

Music

Download

Comments

sohelcmb
sohelcmb :
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নিঃসঙ্গতা মানুষের অনুপস্থিতি নয়; ভুল মানুষদের উপস্থিতি। আর সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য হলো এমন একজন মানুষ থাকা, যার কাছে তোমার সাফল্য কোনো কারণ নয়, দুঃখ কোনো বোঝা নয়, ব্যর্থতা কোনো লজ্জা নয়, আর অস্তিত্বের জন্য কোনো প্রমাণের প্রয়োজন নেই।
2026-08-29 18:14:12
3
rabbivhiopu
subconscious :
সংঘ বিহীন চলার প্রশিক্ষণ নিন, সঙ্গ সব সময় রয় না সাথে
2026-08-30 07:05:19
3
nifat890
Nifat :
অনুভূতি প্রকাশিত শব্দের সঠিক ব্যবহার বুঝি এমনি
2026-09-03 15:15:01
0
alisknowldgebank69
Ali :
ঠিক ১০১% সঠিক,,, যখন আমি ফোনে জানালাম বিবিকে আমার শরির টা খারাপ লাগছে -- তুমি তারাতাড়ি ঘরে চলে আসো😢😢- কিন্তু সে উত্তরে জানালো ২/৩ পর আসবে, আমি বললাম তাহলে আর আসবার দরকার নেই ---- সেই যে থেকেই গেলো -- আর ফিরলোনা -- আজ ১১ বিছর পার হয়ে গেলো -- বেচে ত আছি একা একাই 😔😔🌷। আজ ত চা বানাতে গিয়ে এখন্নি এক হাত পুরে গেলো🔥 -- যার পুড়েছে সেই জানে এই 🔥কষ্ট কতটা ভয়ানয়,,এই পোড়া হাত নিয়েই -- না লিখে থাকতে পারলাম,না।।দোয়া চাই সকল বন্ধুদের কাছে🌷😔🕋🤲ক.শ
2026-08-31 14:10:24
0
fuck_you_god_369
God :
🙂 আমি বাজে মানুষ তোমার দুঃখে আছি ডাক দিও। তবে বহু ব্যস্ত তো টাকার টেনশন আমি ভাই সময় পাবো না তোমার সুখে থাকতে। আর তুমি ও খোঁজ নিলে না।
2026-08-30 17:30:15
0
sajib.mahmud03
Sajib Mahmud :
অসাধারণ।
2026-08-30 14:34:11
0
md..rabbi12
nikoten :
রাইট
2026-09-10 23:02:11
0
aj.world.shop
Aj World Shop :
নিজেকে বোঝাই জীবনের সবচেয়ে কঠিন কাজ। — মির্জা গালিব
2026-08-30 17:16:03
0
kanak.chandra5
kanak chandra :
আমি করবো উল্টো টা
2026-08-30 14:40:26
0
mdjewel7741
মোঃ জুয়েল শেখ :
একদম সঠিক
2026-08-30 07:14:47
0
user9513829047
Rafiqul Islam :
রাইট
2026-09-09 11:44:05
0
abid47311
𝕤𝕜 ℕ𝕒𝕙𝕚𝕕 𝕀𝕤𝕝𝕒𝕞 :
🥰🥰🥰
2026-08-31 16:54:13
0
mdkayumislamraju
Raju :
❤️❤️❤️
2026-08-31 16:09:43
0
aktarulalam70
jewel :
👍👍👍
2026-08-30 18:18:45
0
saifulislamrana658
Saiful Islam :
❤️❤️❤️
2026-08-29 19:00:00
0
user8062624410435
T+H🖤🖤🖤 :
[Heartwarming][Heartwarming][Heartwarming]
2026-09-24 05:33:12
0
To see more videos from user @himu98i6, please go to the Tikwm homepage.

Other Videos


About