একটা সময় পর কেনো যেনো বলতে গিয়েও কথারা সব থমকে যায়। আসলে নিঃশব্দের ভাষা বুঝে আসে না সবার। গোছানো শব্দরা হয়ে যায় অগোছালো আর এলোমেলো কথারা থেমে যায় অবহেলিত অতল গহ্বরে। দূরত্বের দুয়ার খোলা হয় না বহুদিন আগ্রহ নিয়ে। নির্দিষ্ট সময়ে সুখোবিলাস কিংবা দুঃখবিলাসে মন খুলে মধ্যরাতে বসে না গল্পের ফোয়ারা। ঠোঁটের কোণে স্মিত হাসি টেনে বুঝিয়ে দেই আমাদের যা ছিলো আজ ফুরিয়েছে সব।
স্তব্ধ অনুভূতিদের আড়াল করি অত্যন্ত যত্নে। চোখের মণিতে আঁকি উদাসীনতার আল্পনা। অভিমানী ক্ষোভ লুকিয়ে ফেলি নিমিষেই। অব্যক্ত ধ্বনিগুলো গিলে ফেলি মুহূর্তেই। হৃদয়ের আঙিনায় গোপনে গড়ে তুলি রহস্যময় কিছু চুপকথাদের জগৎ। রূপকথার এক অবহেলিত রাজকুমার হয়ে মৃত ফুলের খোঁজে উড়িয়ে দেই বোবা পাখিকে। আকাশের নিলীমাকেও বানিয়ে ফেলি বিষণ্ণ কাল্পনিক।
আর তারপর একাকীত্বকে আপন করে মনের জানালা দিয়ে উঁকি দেই নিঃসঙ্গ চাঁদে। গুনগুনিয়ে গেয়ে উঠি একটা অস্পষ্ট গান। ঠিক তখনই না বলা যত কথারা আমার কান্না হয়ে ঝরে। ফেলে আসা কথাদের স্মৃতি আমার আবার খুব করে মনে পড়ে যায়।