@redowan813: মানুষের সবচেয়ে আশ্চর্য স্বভাব হলো—সে যা পায়, তার হিসাব খুব কম রাখে; আর যা এখনো পায়নি, তার ভয় বহন করে সারাজীবন। আমরা আগামীকালের রিজিক নিয়ে উদ্বিগ্ন হই। ভাবি—কাল কী খাব, কোথায় থাকব, কীভাবে জীবন চলবে, ভবিষ্যৎ আমাকে কোথায় নিয়ে যাবে। আমরা এমন এক দিনের জন্য দুশ্চিন্তা করি, যে দিনটি এখনো আমাদের হাতে আসেনি। অথচ যে গতকাল আমাদের জীবন থেকে চলে গেছে, তার দিকে একবারও ফিরে তাকাই না। গতকাল যে নিঃশ্বাসটি নিয়েছিলাম, সেটিও তো নিশ্চিত ছিল না। আমরা ধরে নিই, আগামীকালও সূর্য উঠবে, হৃদয় স্পন্দিত হবে, ফুসফুস বাতাস নেবে, চোখ পৃথিবী দেখবে। কিন্তু মানুষের এই ‘ধরে নেওয়া’ই তার সবচেয়ে বড় ভ্রম। কারণ জীবন কখনো আমাদের কাছে কোনো নিশ্চয়তার চুক্তি দিয়ে আসেনি। প্রতিটি সকাল আসলে একটি উপহার; প্রতিটি নিঃশ্বাস একটি অনুমতি; প্রতিটি দিন এমন এক দান, যার জন্য আমরা কোনো মূল্য পরিশোধ করিনি। তবু মানুষ আগামীকালের অভাব নিয়ে কাঁদে। কী অদ্ভুত! যে মানুষ গতকালকের একটি নিঃশ্বাসও নিজের শক্তিতে ধরে রাখতে পারেনি, সে আগামী দশ বছরের রিজিক নিজের হাতে নিশ্চিত করতে চায়। যে মানুষ নিজের হৃদস্পন্দনের পরবর্তী মুহূর্তটিও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, সে ভবিষ্যতের সমস্ত হিসাব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে রাত জাগে। এখানেই মানুষের অহংকারের সূক্ষ্মতম রূপ লুকিয়ে আছে—সে নিজের সীমাবদ্ধতা জানে, তবু সীমাহীন নিয়ন্ত্রণের স্বপ্ন দেখে। দার্শনিকের চোখে জীবনকে দেখলে বোঝা যায়, আমাদের দুঃখের একটি বড় অংশ অভাব থেকে জন্মায় না; জন্মায় ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আমাদের কল্পিত ভয় থেকে। আমরা এমন সব বিপদের শোক করি, যেগুলো হয়তো কোনোদিন আমাদের জীবনে আসবেই না। আমরা আগামীকালকে ভয় করতে করতে আজকে হারিয়ে ফেলি। অথচ আজকের এই নিঃশ্বাসটিই একদিন আমাদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি হয়ে থাকবে। একদিন তুমি বুঝবে—যে বাতাসকে তুমি কখনো গুরুত্ব দাওনি, সেটিই ছিল তোমার জীবনের সবচেয়ে নিঃস্বার্থ উপহার। যে সকালটিকে তুমি সাধারণ ভেবেছিলে, সেটিই হয়তো ছিল তোমার জীবনের শেষ সুন্দর সকালগুলোর একটি। যে রিজিককে তুমি সামান্য মনে করেছিলে, সেটিই হয়তো ছিল তোমার জন্য নির্ধারিত দয়ার একটি অদৃশ্য অধ্যায়। তখন মানুষ বুঝতে শেখে—জীবনের বড় বড় অলৌকিক ঘটনা আসলে খুব নীরবে ঘটে। একটি নিঃশ্বাস আসে। আরেকটি চলে যায়। হৃদয় একবার স্পন্দিত হয়। তারপর আবার। আমরা এগুলোকে জীবন বলি; অথচ গভীরভাবে দেখলে এগুলো প্রতিটি মুহূর্তে নতুন করে দেওয়া দয়া। তাই আগামীকালের রিজিক নিয়ে ভয় পাওয়ার আগে গতকালের রিজিকের জন্য কৃতজ্ঞ হও। আগামীকাল কী হবে—এই প্রশ্নের আগে নিজেকে জিজ্ঞেস করো, আজ পর্যন্ত তোমাকে কে এত দূর নিয়ে এসেছে? মানুষ প্রায়ই ভাবে, তার জীবন তার নিজের অর্জন। কিন্তু একটি শিশুর প্রথম নিঃশ্বাস থেকে একজন বৃদ্ধের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তাকালে বোঝা যায়—মানুষ তার জীবনের মালিকের চেয়ে বরং একজন যাত্রী। সে পথ বেছে নেওয়ার কিছু ক্ষমতা পেয়েছে, কিন্তু পথের সমস্ত নিয়ন্ত্রণ পায়নি। সে চেষ্টা করতে পারে, কিন্তু ফল সৃষ্টি করতে পারে না। সে দরজায় কড়া নাড়তে পারে, কিন্তু দরজা কখন খুলবে—তা তার হাতে নয়। এই উপলব্ধিই মানুষকে অহংকার থেকে কৃতজ্ঞতার দিকে নিয়ে যায়। তখন সে বুঝতে পারে—রিজিক শুধু অর্থ নয়। সুস্থ একটি সকালও রিজিক। শান্ত একটি ঘুমও রিজিক। প্রিয় মানুষের একটি কণ্ঠও রিজিক। বিপদের মধ্যে নিরাপদে ফিরে আসাও রিজিক। এমনকি কখনো কখনো কোনো বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার খবরটিও রিজিক—যে বিপদটি তুমি কোনোদিন জানতেই পারোনি। আর সবচেয়ে বড় রিজিক—ফিরে আসার সুযোগ। মানুষ যতবার ভুলে যায়, ততবারও তার জন্য ফেরার দরজা খোলা থাকে। সে যত দূরেই চলে যাক, তার রবের দয়া তার চেয়েও আগে পৌঁছে থাকে। তাই ভয়কে জীবনের মালিক বানিও না। আগামীকাল তোমার জন্য কী নিয়ে আসবে, তুমি জানো না। কিন্তু এটুকু জানো—যিনি তোমাকে গতকাল পর্যন্ত বাঁচিয়ে রেখেছেন, তাঁর জ্ঞানের বাইরে তোমার আগামীকালও নয়। তোমার কাজ আগামীকালকে নিজের হাতে বন্দী করা নয়। তোমার কাজ হলো আজকের নিঃশ্বাসটিকে চিনে নেওয়া। আজ যে রিজিক পেয়েছ, তার জন্য কৃতজ্ঞ হও। আজ যে জীবন পেয়েছ, তার জন্য সিজদায় নত হও। কারণ মানুষ প্রায়ই ভবিষ্যতের ভয়ে এমনভাবে কাঁপে, যেন সে একা তার জীবন বহন করছে। অথচ সত্যটি আরও কোমল— আমরা আগামীকালের রিজিক নিয়ে ভয় পাই, অথচ গতকালের নিঃশ্বাসটিও যে তাঁর দান ছিল—তা মনে রাখি না। সম্ভবত মানুষের শান্তির শুরু সেখানেই, যেখানে সে ভবিষ্যৎকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা থামিয়ে দয়াময়ের ওপর ভরসা করতে শেখে। #প্রবাসী_জীবন #emotionalstatus #trending #fypシ #vairal_video_tiktok
ⱤɆĐØ₩₳₦🥂
Region: QA
Sunday 20 September 2026 15:44:12 GMT
Music
Download
Comments
Mohamed Ilyas8649 :
❤️❤️❤️
2026-09-20 16:00:17
0
To see more videos from user @redowan813, please go to the Tikwm
homepage.