লামাযহাবি/দেহবাদিদের আজরাইল :
পড়াশোনা করেন। তাহলে দেখবেন আবু দাউদের ৭৫৯ নাম্বার হাদিস দলিলযোগ্য / সহিহ নয়।
[১নং কারণ ] সুলায়মান ইবনে মূসা এবং 'আনআনা' রেওয়ায়েত।
এই হাদিসের সনদে সুলায়মান ইবনে মূসা নামক একজন 'মুদাল্লিস' রাবি। মুহাদ্দিসগণের মূলনীতি অনুযায়ী, মুদাল্লিস রাবির 'আনআনা' (عن) সূত্রে বর্ণিত রেওয়ায়েত গ্রহণযোগ্য বা দলিলযোগ্য নয়।
[২নং কারণ ]
জুমহুর মুহাদ্দিসীনদের দৃষ্টিতে এই হাদিসের রাবির দুর্বলতা প্রমাণিত।
রাবি সুলায়মান ইবনে মূসার ব্যাপারে শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিসগণের মন্তব্য:
• ইমাম বুখারী র. বলেছেন, عنده مناكير তার কিছু আপত্তিকর বর্ণনা আছে।
• ইমাম নাসাঈ বলেছেন, ليس بالقوي في الحديث তিনি হাদীসে মজবুত নন।
( দ্র, যাহাবীর আল কাশিফ)
• আলী ইবনুল মাদীনী বলেছেন, مطعون عليه সমালোচিত ও অভিযুক্ত রাবী।
• আস সাজী রহ. বলেছেন, عنده مناكير তার কিছু আপত্তিকর বর্ণনা আছে।
• হাকেম আবু আহমদ বলেছেন, في حديثه بعض المناكير তার হাদীসে কিছু কিছু আপত্তিকর বিষয় আছে।
• আবু হাতেম রাযী বলেছেন, محله الصدق وفي حديثه بعض الاضطراب তিনি সাদূক বা সত্যনিষ্ঠ মানের, তবে তার হাদীসে কিছু কিছু ইযতিরাব বা অসঙ্গতি রয়েছে।
• ইবনুল জারূদ তাকে যুআফা গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।বোঝা যায়, তার দৃষ্টিতেও তিনি দুর্বল ছিলেন।
• ইবনে হাজার আসকালানী রহ. তাকরীব গ্রন্থে লিখেছেন,صدوق فقيه في حديثه بعض لين وخولط قبل موته بقليلতিনি সাদূক বা সত্যনিষ্ঠ, ফকীহ, তার হাদীসে কিছু দুর্বলতা রয়েছে। মৃত্যুর পূর্বে তার হাদীস ওলটপালট হয়ে গিয়েছিল।
এখন বলুন, এ ধরনের বর্ণনাকারীর হাদীস সহীহ হয় কীভাবে?
• স্বয়ং আলবানী সাহেব তার সম্পর্কে আসলু সিফাতিস সালাহ গ্রন্থে (২/৫২৮) লিখেছেন, صدوق في حديثه بعض لين সাদূক, তার হাদীসে কিছু দুর্বলতা রয়েছে। ( ইরওয়াউল গলিল)
[৩নং কারণ] হাদিসটি 'মুরসাল'
হাদিসটি সনদের বিচারে মুরসাল। সালাফি বা লা-মাযহাবি নীতি অনুযায়ী, তাবেয়ির 'মুরসাল' হাদিস এককভাবে গ্রহণযোগ্য বা দলিল হিসেবে বিবেচিত হয় না।
2026-09-23 17:10:50