Ayesha Siddika Spreha :
আজ ১৪ বছর পর নিজ মাতৃভূমি বাংলাদেশে ফিরছে কারাহান পরিবারের বড় ছেলে আতিস কারাহান। যে দেশ ছেড়ে ছিল নিজের সবচেয়ে অপছন্দের কাজিনের সাথে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে। কারণ তার মা মিসেস আরিফা কারাহান মনে করতেন, তার ছেলে আতিস তার বাবার তাকওয়ান কারাহানের মতো ঘাড়ত্যাড়া হবে এবং কোনো মেয়ের আশেপাশেও যাবে না। তাই তিনি জোর করে আতিসের দিয়ার সাথে বিয়ে দেন। যাকে আতিস একদমই সহ্য করতে পারত না।
~অতীত~
“আমি ভাবছি আমাদের আতিসের সাথে দিয়ার বিয়ে দেব।”
এই কথা বলে স্বামীর দিকে তাকান আরিফা কারাহান।
তার কথা শুনে অবাক হয়ে যান তাকওয়ান কারাহান। তিনি সাথে সাথে অবাক হয়ে বলেন,
“এটা কী করে সম্ভব? ওদের বয়সই বা কত?”
স্বামীর কথায় বিরক্তিতে ভ্রু কুঁচকে ফেলেন আরিফা। তারপর কিছুটা সময় নিয়ে বলেন,
“আমি কি এখন ওদের সংসার করতে বলছি? এখন শুধু বিয়েটা হয়ে থাকবে। আর তোমার গুণধর ছেলে হয়েছে তো তোমার মতো। আমাকে না হয় সহজ-সরল পেয়েছো, নিজের ছেলের জন্য আমার মতো সহজ-সরল মেয়ে কোথায় পাবে? একবার ভেবে দেখো।”
তাকওয়ান স্ত্রীর কথায় তেমন পাত্তা দেন না। কারণ তিনি জানেন আতিস আর দিয়া হলো সাপ আর নেউল। এদের বিয়ে কখনোই সম্ভব নয়। তিনি আর কথা না বাড়িয়ে অফিসের উদ্দেশ্যে চলে যান।
এই দিকে স্বামীর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় জবাব না পেয়ে আরিফা কারাহান চিন্তায় পড়ে যান। তিনি কী করবেন এই ঘাড়ত্যাড়া বাপ-ছেলেকে নিয়ে?
“দোস্ত তুই তো অনেক ভাগ্যবান। দেখ, তোর মা নিজে তোর বিয়ে দিতে চাইছে। আর আমাদের দেখ—যদি বাপ-মা শুনে আমরা প্রেম করার চিন্তা করছি, তাহলে তো বাড়ি থেকেই বের করে দেবে। আর সেখানে তোর মা নিজে তোর বিয়ে দিতে চাইছে।”
নিজের বন্ধুদের নিজের মায়ের এমন অদ্ভুত চিন্তার কথা বলার পর থেকেই শুরু হয়েছে এদের এমন কথা আর মজা করা।
আতিস এবার রেগে তাকায় বন্ধুদের দিকে। তার তাকানোকে কেউ তেমন কোনো পাত্তা দেয় না। তারা নিজেদের ভাগ্য নিজে আপসোস করে—কেন উপরওয়ালা তাদের এমন একটা মা দিল না।
তাদের মধ্যে একজন আপসোস বাদ দিয়ে বলে,
“আচ্ছা সেই অভাগী—উফ, সরি সরি—সেই ভাগ্যবতীটা কে শুনি?”
আতিস হতাশ হয়ে বলে,
“কে আর! আমার মায়ের অতি পছন্দের দিয়া। আম্মু আর মেয়ে পেল না দুনিয়ায়।”
রাফি অবাক হয়ে বলে,
“দোস্ত, মজা করিস না! তুই আর দিয়া? আমি তো হার্ট অ্যাটাক করব। দিয়ার বয়সই বা কত? সবে মাত্র কিন্ডারগার্টেনে পড়ে।”
মাহিন রাফির সাথে তাল মিলিয়ে বলে,
“হ্যাঁ, দিয়ার তো মাত্র ৪ কিংবা ৫ বছর হবে।”
আতিস হতাশ হয়ে বলে,
“সাড়ে ৫ বছর। সামনে ৬ হবে। জানিস, ওর সাথে আমার বয়সের পার্থক্য কম করে হলেও ৮ বছর। এটা কী করে সম্ভব! আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। তোরা কোনো সলিউশন দে আমাকে। আমি এই দিয়া নামক প্যারাকে নিয়ে পুরো লাইফ কাটাতে পারব
2026-09-25 09:23:02