siyam ahmed :
প্রতিদিন একটু একটু করে মরে যাই।
হয়তো কোনো দুঃখ পেয়ে। হয়তো কোনো না বলা কথার ভারে। হয়তো এমন কারও অবহেলায়, যার কাছ থেকে একটু যত্ন পাওয়ার আশায় দিনের পর দিন অপেক্ষা করেছি। কখনো কোনো হারানোর শব্দে, কখনো কোনো প্রিয় মানুষের বদলে যাওয়া আচরণে, আবার কখনো নিজের কাছেই নিজেকে অপরাধী মনে হওয়ার দীর্ঘশ্বাসে।
সব মৃত্যু চোখে দেখা যায় না। কিছু মৃত্যু খুব নিঃশব্দে ঘটে। মানুষটি তখনও হাঁটে, কথা বলে, হাসে, মানুষের ভিড়ে বসে থাকে, প্রয়োজন হলে অন্যের খোঁজও নেয়। অথচ তার ভেতরে কোথাও একটা ঘর প্রতিদিন একটু একটু করে ফাঁকা হয়ে যায়। একটা বিশ্বাস ভেঙে যায়। একটা স্বপ্ন নিভে যায়। ভালোবাসার জায়গায় জমে ওঠে অভিমান। আর একসময় নিজের কাছেই নিজের ফিরে আসার পথটা অচেনা হয়ে যায়।
আমিও বোধহয় তেমন করেই মরে যাচ্ছি। প্রতিদিন একটু একটু করে।
কখনো কোনো উত্তর না পাওয়া অপেক্ষায়। কখনো খুব চেনা মানুষের অচেনা হয়ে যাওয়ায়। কখনো নিজের কষ্টটুকু কাউকে বোঝাতে না পারার অসহায়তায়। কখনো এমন কিছু কথা মনে পড়ে যায়, যেগুলো ভুলে যেতে চেয়েও ভুলতে পারিনি। আবার কখনো কোনো কারণই থাকে না। হঠাৎ মন খারাপ হয়, বুকের ভেতর ভারী হয়ে আসে, মনে হয় পৃথিবীর এত মানুষের ভিড়েও আমি যেন একা দাঁড়িয়ে আছি।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, এই মৃত্যুর কোনো শেষকৃত্য হয় না। কেউ জানে না কখন একজন মানুষ তার ভেতরের কতটুকু হারিয়ে ফেলেছে। কেউ দেখে না, হাসতে হাসতে একজন মানুষ কতটা ক্লান্ত। কেউ বোঝে না, ‘ভালো আছি’ বলার পেছনে কত রাতের কান্না লুকিয়ে থাকে।
তাই প্রতিদিন সকালে আবার নিজেকে গুছিয়ে নিই। মুখে স্বাভাবিকতার একটা মুখোশ পরি। মানুষের সঙ্গে কথা বলি, প্রয়োজনের কথা বলি, হাসি, কখনো গল্পও করি। সবাই ভাবে, আমি বোধহয় ভালো আছি। অথচ দিন শেষে নিজের ঘরে ফিরে বুঝতে পারি, আজও নিজের ভেতর থেকে একটু কিছু হারিয়ে গেছে।
হয়তো এভাবেই মানুষ বেঁচে থাকে। একটু একটু করে মরে গিয়ে, আবার একটু একটু করে নিজেকে জোড়া লাগিয়ে।
কেউ জানে না, আগামীকাল আমি আমার ভেতরের কতটুকু নিয়ে ঘুম থেকে উঠব। শুধু জানি, প্রতিদিনের মতো আজও কিছু দুঃখ বুকের ভেতর রেখে দেব, কিছু কথা কাউকে বলব না, কিছু অভিমান নিজের কাছেই লুকিয়ে রাখব।
আর খুব নিঃশব্দে বলব,
আমি আছি।
যদিও সত্যিটা হলো,
প্রতিদিন একটু একটু করে মরে
2026-10-05 14:36:00