বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চোখে সর্বশ্রেষ্ঠ মানব ছিলেন গৌতম বুদ্ধ। রবীন্দ্রনাথ তাঁর বিভিন্ন প্রবন্ধ, চিঠিপত্র এবং কবিতায় বুদ্ধদেবকে পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে আদর্শ ও মহান মানুষ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। [1, 2]
রবীন্দ্রনাথ বুদ্ধদেবকে কেন সর্বশ্রেষ্ঠ মানব মনে করতেন, তার প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
নিখাদ মানবপ্রেম ও অহিংসা: কোনো অলৌকিক ক্ষমতার আশ্রয় না নিয়ে কেবল একজন মানুষ হিসেবে গৌতম বুদ্ধ মানুষের ভেতরের অমিত সম্ভাবনা, অহিংসা, মৈত্রী ও করুণার যে বাণী প্রচার করেছিলেন, তা কবিগুরুকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছিল। [1, 2]
সাম্যবাদ ও জাতিভেদ প্রথার বিরোধিতা: আড়াই হাজার বছর আগে বুদ্ধদেব তৎকালীন সমাজের জাত-পাত ও ভেদাভেদ ভুলে সকল মানুষের সমান অধিকার ও মৈত্রীর কথা বলেছিলেন, যা রবীন্দ্রনাথের নিজের জীবনদর্শনের সাথে মিলে যায়। [1]
নিজের স্বীকারোক্তি: রবীন্দ্রনাথ নিজেই এক জায়গায় লিখেছেন, "জগতে যাঁহাকে সর্বশ্রেষ্ঠ মানব বলিয়া আমি মনে করি, আজ এই মন্দিরে তাঁহারই (বুদ্ধের) জন্মোৎসব।"
বুদ্ধদেবের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা থেকে রবীন্দ্রনাথ 'নটীর পূজা', 'চণ্ডালিকা'র মতো বিখ্যাত নাটক এবং অসংখ্য বুদ্ধ-বন্দনামূলক কবিতা ও গান রচনা করেছিলেন।