® :
আসলে কে কেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলছে, সেই কারণটা না জেনে কাউকে বিচার করা ঠিক না। আমরা মুসলিম জাতি। একজন মুসলমানের ওপর বিপদ আসতে দেখলে আরেকজন প্রকৃত মুসলমানের মন খুশি হওয়ার কথা নয়। বিশেষ করে সৌদি আরবের মতো একটি দেশে, যেখানে পবিত্র কাবা শরিফ অবস্থিত, যেখানে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারক রয়েছে, সেই দেশে মিসাইল হামলা হলে একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের কষ্ট পাওয়ারই কথা।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, তারপরও কিছু বাঙালি কেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলছে? এর পেছনের কারণটা বুঝতে হলে তাদের অভিজ্ঞতার কথাও শুনতে হবে। যারা সৌদি আরবে থেকেছে, যারা সেখানে গিয়ে নির্যাতন, অপমান কিংবা অন্যায়ের শিকার হয়েছে, তাদের অনেকের বুকে হয়তো এমন কিছু কষ্ট জমে আছে, যা দূর থেকে আমরা বুঝতে পারব না। কেউ হয়তো নিজে ভুক্তভোগী, আবার কারও পরিবারের সদস্য সেই অভিজ্ঞতার শিকার।
তাদের অভিযোগ, সৌদি আরবে কিছু মানুষের হাতে প্রবাসীরা যে জুলুম, অপমান ও অন্যায়ের শিকার হয়, সেই কষ্ট থেকেই তাদের মনে ক্ষোভ জন্মেছে। হয়তো সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই কেউ কেউ ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলছে। তবে সবার কারণ এক নয়, আর সব সৌদি নাগরিককেও এক পাল্লায় মাপা ঠিক হবে না।
একটা কথা মনে রাখতে হবে, সৌদি আরবের কিছু মানুষের অন্যায় আচরণের জন্য পুরো দেশ, সব মানুষ কিংবা নিরপরাধ প্রবাসীদের বিপদে আনন্দিত হওয়া কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়। সেখানে আমাদের বাংলাদেশের অসংখ্য ভাই কাজ করে, রেমিট্যান্স পাঠিয়ে তাদের পরিবার চালায়। মিসাইল হামলায় তাদের জীবনও বিপদের মুখে পড়তে পারে।
যারা সৌদিতে গিয়ে জুলুমের শিকার হয়েছেন, তাদের কষ্টকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। আবার সেই কষ্টের কারণে নিরপরাধ মানুষের বিপদ কামনা করাও ঠিক নয়। পবিত্র কাবা শরিফ ও আমাদের প্রিয় নবী (সা.)-এর রওজা মোবারকের প্রতি ভালোবাসা এক জিনিস, আর কোনো দেশের মানুষের অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করা আরেক জিনিস।
তাই কাউকে শুধু ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলতে দেখে তার মনের পুরোটা বুঝে ফেলার চেষ্টা করবেন না। আগে জানুন, তার এই ক্ষোভের পেছনে কী অভিজ্ঞতা, কী কষ্ট আর কী বাস্তবতা রয়েছে। জুলুমের বিচার হোক, জালিমের শাস্তি হোক, কিন্তু নিরপরাধ মানুষের জীবন বিপন্ন হোক—এটা কোনো বিবেকবান মানুষের কামনা হওয়া উচিত নয়।
2026-10-13 15:20:31