@arman.isalm7: ২০১২ সালের শুরুর দিকে শামীম হাসনাত ছিলেন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের একজন নিভৃতচারী ও সাধারণ ছাত্র। ক্লাস, ল্যাব আর কোডিংয়ের চেনা গণ্ডিতেই কাটত তাঁর দিন। তখন অ্যান্ড্রয়েড ফোনে বাংলা লেখা ছিল অত্যন্ত জটিল এবং সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। একজন প্রযুক্তিপ্রেমী শিক্ষার্থী হিসেবে মানুষের এই প্রাত্যহিক কষ্ট তাঁকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে। তিনি সিদ্ধান্ত নেন, প্রচলিত বিদ্যার বাইরে গিয়ে নিজের মেধা দিয়ে এই সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান করবেন। সেই তীব্র ইচ্ছা থেকেই শুরু হয় তাঁর নীরব পথচলা। ২০১২ সালের পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের ছুটিতে যখন সবাই উৎসবের আমেজে ব্যস্ত, শামীম তখন ময়মনসিংহে গ্রামের বাড়িতে বসে ল্যাপটপ নিয়ে এক চেষ্টায় নামেন। কোনো বড় টিম, অভিজ্ঞ মেন্টর কিংবা আধুনিক ল্যাব ছাড়াই ঘরের এক কোণে বসে দিনরাত এক করে তিনি একা কোডিং করতে থাকেন। পুরো ছুটি জুড়ে আরাম-আয়েশ বিসর্জন দিয়ে, একের পর এক কোডের লাইন লিখে তিনি তৈরি করেন 'রিদমিক কিবোর্ড'। সাধারণ একটি সাইড প্রজেক্ট হিসেবে শুরু হওয়া এই সৃষ্টি উন্মোচনের পর কোনো প্রচার ছাড়াই, কেবল মানুষের উপকারে আসার গুণে মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে জনপ্রিয় হতে থাকে এই কিবোর্ডটি যা আজকাল আমরা অনেকে ব্যবহার করি ফোনে।