🥀 অবহেলার গল্প :
বউয়ের আবার কিসের মন, কিসের অভিমান, কিসের কষ্ট..? বউ তো সংসার করবে, সবার কথা শুনবে, সবার প্রয়োজন বুঝবে, নিজের ইচ্ছাগুলো চেপে রেখে অন্যদের মুখে হাসি ফোটাবে। তার নিজের মন খারাপ হতে নেই, তার কষ্ট পেতে নেই, তার ভালোবাসা চাইতে নেই! কারণ সে তো ভাত-কাপড় পাচ্ছে, মাথার ওপর একটা ছাদ আছে—তাহলেই যেন তার জীবনের সব চাওয়া পূরণ হয়ে গেছে! 😅💔
অথচ কেউ একবারও ভাবে না, একজন মেয়েও তো মানুষ। তারও একটা মন আছে, নিজের মতো করে বাঁচার ইচ্ছে আছে, একটু ভালোবাসা পাওয়ার স্বপ্ন আছে। সেও চায় কেউ তার মনের খবর নিক, তার অভিমান বুঝুক, তার চোখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করুক—কী হয়েছে তোমার? কিন্তু সংসারের দায়িত্ব পালন করতে করতে কখন যে তার নিজের ইচ্ছাগুলো হারিয়ে যায়, সেটা বোঝার মতো মানুষও পাশে থাকে না।
বিয়ের পর একটা মেয়ে নিজের পরিচিত পরিবেশ, আপন মানুষ আর চেনা জগৎ ছেড়ে নতুন একটা সংসারে আসে। সবাইকে আপন ভাবার চেষ্টা করে, নতুন করে নিজের একটা জায়গা তৈরি করতে চায়। অথচ অনেক সময় সেই সংসারেও তাকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়, সে যেন বাইরের মানুষ! নিজের কষ্টের কথা বললে অভিযোগ, নিজের অধিকার চাইলে বেশি চাওয়া, আর ভালোবাসা চাইলে যেন সে বিরক্তির কারণ।
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, একজন মেয়ের নিজের বলতে যেন কিছুই থাকে না। যে ঘরটাকে সে দিনরাত পরিশ্রম করে সাজায়, সেই ঘরেও কখনো কখনো নিজেকে অতিথি মনে হয়। সবার সুখ-দুঃখে পাশে থেকেও নিজের দুঃসময়ে একা হয়ে যায়। অথচ তারও তো ইচ্ছে করে এমন একটা জায়গা থাকুক, যেখানে তাকে নিজের জায়গা প্রমাণ করতে হবে না, যেখানে সে মন খুলে কাঁদতে পারবে, যেখানে তাকে বোঝা নয়—আপন মানুষ হিসেবে দেখা হবে।
একজন স্ত্রী শুধু ভাত-কাপড়ের জন্য বেঁচে থাকে না; তারও ভালোবাসা, সম্মান, মানসিক শান্তি আর নিজের বলে একটা জায়গা পাওয়ার অধিকার আছে। সংসারে তার দায়িত্ব আছে বলেই তার অনুভূতিগুলো মূল্যহীন হয়ে যায় না।
কখনো কখনো মনে হয়, এই পৃথিবীতে নিজের ঠিকানা খুঁজতে খুঁজতেই একটা মেয়ের পুরো জীবন কেটে যায়। অথচ সে তো খুব বেশি কিছু চায়নি—শুধু এমন একটা ঘর চেয়েছিল, যেখানে নিজেকে অতিথি মনে হবে না, আর এমন একজন মানুষ চেয়েছিল, যার কাছে সে নির্দ্বিধায় বলতে পারবে, “এই মানুষটা আমার, এই ঘরটা আমারও, এখানে আমার মন খারাপ হলেও কেউ আমাকে বুঝবে।” ❤️🩹🥺💔
2026-10-21 16:01:53