@mahbuba.islam.t: আজ সন্তানের একটু দুষ্টুমিতে মেজাজ হারাচ্ছেন। একটু বেশি কথা বললেই বিরক্ত হচ্ছেন। ভাবছেন, এগুলো তো অপ্রয়োজনীয় কথা! সন্তান যখন তার আঁকা কোনো ছবি কিংবা নিজের তৈরি কিছু আনন্দ নিয়ে আপনাকে দেখাতে আসে, আপনি হয়তো অন্যমনস্কভাবে বলে দেন, “হ্যাঁ, সুন্দর হয়েছে।” অথচ আপনার সন্তান আশা করেছিল, আপনি একটু উচ্ছ্বসিত হবেন, ছবিটা মনোযোগ দিয়ে দেখবেন, তার ছোট্ট অর্জনে আনন্দিত হবেন। আপনি হয়তো বুঝতেই পারছেন না, আপনার কাছে যে বিষয়টা সামান্য, আপনার সন্তানের কাছে সেটাই অনেক বড় আনন্দ। সে আসলে শুধু ছবিটা দেখাতে আসেনি, সে এসেছে আপনার মনোযোগ, প্রশংসা আর ভালোবাসা পেতে। আজ আপনি তার ছোট ছোট কথাগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না, তার আনন্দে আনন্দিত হচ্ছেন না, তার অনুভূতিগুলোকে অবহেলা করছেন। অথচ একদিন হয়তো সে আর আপনাকে কিছু দেখাতে আসবে না, সারাদিনের গল্প শোনাতে চাইবে না, নিজের ছোট ছোট আনন্দ কিংবা কষ্টগুলোও আপনার সঙ্গে ভাগ করে নেবে না। সেদিন হয়তো আপনি ভাববেন, সন্তান বড় হয়ে গেছে, আগের মতো কথা বলে না। কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখবেন, আপনার কাছে বারবার এসেও যখন সে প্রত্যাশিত সাড়া পায়নি, তখনই হয়তো ধীরে ধীরে নিজের জগৎটা আপনার কাছ থেকে গুটিয়ে নিতে শিখেছে? মনে রাখবেন, সন্তানকে বড় করা আর সন্তানের সঙ্গে মানসিক বন্ধন তৈরি করা এক বিষয় নয়। তার খাওয়া-পরা, পড়াশোনা ও অন্যান্য চাহিদা পূরণ করাই আপনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নয়। তার মনের কথা শোনা, অনুভূতিগুলো বোঝা, তার ছোট ছোট আনন্দে অংশ নেওয়া এবং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করাও জরুরি, যেখানে সে নির্ভয়ে নিজের সব কথা বলতে পারে। সন্তানের সঙ্গে Quality Time কাটানো মানে শুধু তার পাশে বসে টিভি দেখা কিংবা একসঙ্গে রিলস দেখা নয়। বরং তার সঙ্গে মন থেকে যুক্ত থাকা, মনোযোগ দিয়ে তার কথা শোনা এবং তাকে অনুভব করানো যে, সে আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানের সঙ্গে এমনভাবে emotionally connected হোন, যেন আপনার ভালোবাসার ছাপ তার হৃদয়ে সারাজীবন থেকে যায়। পৃথিবীর যেখানেই থাকুক, জীবনে যত কঠিন পরিস্থিতিই আসুক, সে যেন জানে—পৃথিবীর সবাই তাকে ভুল বুঝলেও এমন একজন মানুষ আছেন, যার কাছে সে নির্দ্বিধায় ফিরে যেতে পারবে। যিনি তাকে বিচার না করে শুনবেন, তার কষ্ট বুঝবেন এবং কঠিন সময়ে তার পাশে থাকবেন। সেই মানুষটি যেন হন তার বাবা কিংবা মা। সন্তানের শৈশব বারবার ফিরে আসবে না। আজ যে ছোট্ট মানুষটা আপনার মনোযোগের জন্য ব্যাকুল, একদিন সে-ই নিজের জীবন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। তাই আজ তার কথা শুনুন, তার অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন, তার ছোট ছোট আনন্দের অংশ হোন। সন্তানকে শুধু এমনভাবে বড় করবেন না, যেন সে জীবনে সফল হতে পারে; এমন একটি সম্পর্কও গড়ে তুলুন, যেখানে বড় হয়েও সে আপনার কাছে নিজের সুখ-দুঃখ, ভয়, ব্যর্থতা ও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো ভাগ করে নিতে পারে। কারণ দিনশেষে আপনি শুধু এমন একজন বাবা বা মা হতে চাইবেন না, যিনি সন্তানের সব প্রয়োজন পূরণ করেছেন; আপনি এমন একজন মানুষও হতে চাইবেন, যার ভালোবাসা সন্তান সারাজীবন নিজের হৃদয়ে বহন করে। ✍️ Mahbuba
Mahbuba
Region: US
Wednesday 21 October 2026 23:34:31 GMT
Music
Download
Comments
There are no more comments for this video.
To see more videos from user @mahbuba.islam.t, please go to the Tikwm
homepage.