MD Sahmim mia 8743 :
মায়া জিনিসটা বড়ই বেহায়া! একে কোনো শাসন মানানো যায় না, কোনো নিষেধের গণ্ডিতে আটকে রাখা যায় না। মানুষ কত কিছুকেই না ভুলে যেতে চায়—স্মৃতি, মানুষ, অতীত, কিংবা ফেলে আসা কোনো সুন্দর মুহূর্ত। কিন্তু যাকে একবার মনে দাগ কেটে বসার সুযোগ দেওয়া হয়, তার মায়া সহজে কাটতে চায় না। শত শত মাইল দূরত্ব, হাজারটা অপূর্ণতা, কিংবা তীব্র অভিমানের বরফ জমলেও এই বেহায়া মায়াটা নীরবে ঠিকই মনের কোণে বেঁচে থাকে।
সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়, প্রতিশ্রুতিগুলো কাগজের পাতার মতো উড়ে যায়, মানুষগুলোও ব্যস্ত হয়ে পড়ে তাদের নিজেদের দুনিয়ায়। অথচ অবলীলাক্রমে রয়ে যায় মায়া। যাকে নিজের বলা যায় না, যার ওপর একটুখানি অধিকার ফলানোরও কোনো আইনগত বা সামাজিক স্বীকৃতি থাকে না—সবচেয়ে বেশি মায়া বোধহয় তার জন্যই জমে থাকে। এই অদ্ভুত অনুভূতি কাউকে কখনো পর হতে দেয় না। বারবার মনে করিয়ে দেয়—"তুমি তো তাকে ছাড়তে চেয়েছিলে, কিন্তু সে তো তোমার ভেতরে শিকড় গেড়ে বসে আছে!"
দুনিয়ার সব অনুভূতিগুলোর একটা নির্দিষ্ট বয়স বা স্থায়িত্ব থাকে। রাগ একসময় কমে যায়, ক্ষোভের আগুন নিভে আসে, ঘৃণা একসময় উদাসীনতায় রূপ নেয়। কিন্তু মায়া? মায়া এমন এক অদ্ভুত জিনিস, যা যত বেশি অবহেলা পায়, ততই যেন মাটির আরও গভীরে শেকড় ছড়ায়। কেউ যখন ইচ্ছাকৃত দূরে সরে যায়, আঘাত করে কথা বলে, বা এক পলক দেখতেও চায় না—তখনও বুকফাটা দীর্ঘশ্বাসের সাথে মনের অজান্তে উচ্চারিত হয় সেই প্রিয় মানুষটির নাম। একে কি পাগলামি বলবেন, নাকি হৃদয়ের অসহায়ত্
. স্মৃতির চাদরে মোড়ানো মায়াবী রাতগুলো মাঝরাতে যখন চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে আসে, তখন এই বেহায়াপনা চরমে পৌঁছায়। দিনের ব্যস্ততা, হাজারো মানুষের ভিড়, হাসিমুখের অভিনয়—সবকিছু মিলিয়ে মুখোশটা যখন খুলে পড়ে, তখন একাথানা বালিশ আর একরাশ মায়া এসে ভর করে। পুরোনো চ্যাটবক্সের স্ক্রিনশট, ফেলে আসা কোনো ছোট্ট মেসেজ, কিংবা বৃষ্টিভেজা বিকালের কোনো স্মৃতি—হঠাৎ করেই সব জীবন্ত হয়ে ওঠে। মন তখন আর বাস্তবতাকে মানতে চায় না, সে শুধু ফিরে যেতে চায় সেই দিনগুলোতে, যেখানে কষ্ট থাকলেও একটা সুতোর টান অন্তত ছিল।
মানুষ আসলে মায়ারই পুতুল। আমরা সবাই কোনো না কোনো মায়ার পেছনে ছুটে চলেছি। কেউ ভালোবাসার মায়ায়, কেউ স্মৃতির মায়ায়, কেউ আবার না পাওয়ার বেদনায় জড়িয়ে থাকা কোনো মানুষের মায়ায়। এই মায়া মানুষকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দেয়, আবার অদ্ভুত এক শক্তির জোগানও দেয়। মানুষ কাঁদতে কাঁদতে হাসতে শেখে কেবল এই মায়ার খাতিরেই।
এসে একটা কথাই বারবার মনে হয়—সব অনুভূতিকে হয়তো ওষুধ দিয়ে বা সময় দিয়ে নিরাময় করা যায়, কিন্তু মায়া নামক এই বেহায়া রোগটার কোনো ওষুধ নেই। এ নিজেই নিজের নিয়ম তৈরি করে, নিজেই নিজের মতো করে পুড়িয়ে ছ
2026-10-23 14:03:03