+30 TASKIN ALONE 🚩🇪🇺🇬🇷✊ :
লিবিয়া থেকে গ্রিস—এক অনিশ্চিত জীবনের কষ্টের গল্প
আমরা লিবিয়া দিয়ে অনেক কষ্ট সহ্য করে আজ গ্রিসে এসে পৌঁছেছি। এই পথটা কতটা কঠিন, কতটা ভয়ংকর, আর কতটা কষ্টের—সেটা শুধু তারাই বুঝবে, যারা নিজের জীবন হাতে নিয়ে এই পথ পাড়ি দিয়েছে। আমাদের বুকের ভেতরে কত স্বপ্ন ছিল, কত আশা ছিল, কত ইচ্ছা ছিল! ভেবেছিলাম, একদিন হয়তো আমাদের জীবনটা বদলে যাবে, পরিবারের মুখে একটু হাসি ফোটাতে পারব, নিজের ভবিষ্যৎটা সুন্দর করে গড়ে তুলতে পারব। কিন্তু আজ গ্রিসে আসার পরও আমাদের সেই অনিশ্চয়তা শেষ হচ্ছে না।
লিবিয়ার সেই কঠিন দিনগুলো আজও আমাদের মনে পড়ে। কত ভয়, কত দুশ্চিন্তা, কত না বলা কষ্ট বুকের ভেতরে জমে আছে! কত রাত নির্ঘুম কেটেছে, কতবার মনে হয়েছে—আমাদের ভবিষ্যৎ কী হবে, আমরা কি কখনো নিরাপদে পৌঁছাতে পারব? তবুও সব কষ্ট সহ্য করে আমরা সামনে এগিয়ে এসেছি। কারণ আমাদের চোখে ছিল কিছু স্বপ্ন, মনে ছিল নতুন করে বাঁচার আশা।
কিন্তু আজ গ্রিসে এসে আমাদের মনে আরও অনেক প্রশ্ন জমেছে। এখানে আসার পর আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো নিশ্চিত কথা শুনতে পাচ্ছি না। আমাদের হাতে এমন কোনো কাগজপত্রও নেই, যা দেখে আমরা বুঝতে পারব সামনে আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে। আমরা জানি না, আমাদের কত দিন অপেক্ষা করতে হবে, আমাদের ভাগ্যে কী আছে, আর শেষ পর্যন্ত আমাদের জীবন কোন দিকে যাবে।
সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় যখন মনে প্রশ্ন জাগে—আমাদের কি আবার দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে? এত কষ্ট করে, এত আশা নিয়ে, এত দূরের পথ পাড়ি দিয়ে এখানে আসার পর যদি আবার ফিরে যেতে হয়, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ কী হবে? আমাদের এত দিনের স্বপ্নগুলোর কী হবে? পরিবারের জন্য যে আশা নিয়ে আমরা ঘর ছেড়েছি, সেই আশার কী হবে?
আমরা তো কেউ নিজের শখ পূরণ করার জন্য এত কষ্টের পথ বেছে নিইনি। আমাদেরও একটা পরিবার আছে, আমাদেরও মা-বাবা আছে, আপনজন আছে। তাদের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন আমাদের বুকের মধ্যে রয়েছে। হয়তো বাড়িতে থাকা মানুষগুলো প্রতিদিন আমাদের খবরের অপেক্ষায় থাকে। হয়তো তারা ভাবে, আমরা বিদেশে এসে ভালো আছি, আমাদের জীবন সুন্দর হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তারা কি জানে, আমাদের বুকের ভেতরে কতটা দুশ্চিন্তা, কতটা অনিশ্চয়তা আর কতটা কষ্ট জমে আছে?
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, আমরা নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কিছুই নিশ্চিতভাবে জানি না। আজ কোথায় থাকব, আগামীকাল কী হবে, আমাদের কাগজপত্র কবে হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজ
2026-10-23 18:04:46