ʘ‿ʘ_𝐘𝐨𝐮𝐫 Afran _ʘ‿ʘ :
একটা প্রবাসী জানে, থেমে যাওয়ার বিলাসিতা তার জন্য নয়। এখানে ক্লান্তি আসে, কিন্তু ছুটি আসে না। শরীর ভেঙে পড়ে, কিন্তু দায়িত্ব ভাঙে না। প্রতিটি সকাল নতুন যুদ্ধের ডাক দেয়, আর প্রতিটি রাত নীরবে বলে— 'আরেকটা দিন পার করলে।' এই জীবন শুধু রুটি-রুজির নয়; এটা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার জীবন।
প্রবাসীর হাসিটা অনেক সময় ছবিতে সত্যি লাগে, কিন্তু বাস্তবে সেই হাসির পেছনে থাকে হাজার অপ্রকাশিত গল্প। পরিবারের সঙ্গে কাটাতে না পারা ঈদ, মায়ের হাতের রান্নার স্বাদকে শুধু স্মৃতিতে খোঁজা, বাবার বয়স বেড়ে যাওয়া দূর থেকে দেখা, ভাই-বোনের আনন্দে পাশে থাকতে না পারা— এসবই প্রবাসীর নিত্যসঙ্গী। তবুও সে ভেঙে পড়ে না। কারণ সে জানে, তার চোখের জল কেউ দেখতে না পেলেও, তার দায়িত্বের ওজন কমে না।
অনেকে শুধু প্রবাসীর পাঠানো টাকাটা দেখে, কিন্তু সেই টাকার পেছনে লুকিয়ে থাকা রোদে পোড়া দিন, অতিরিক্ত শিফট, নির্ঘুম রাত, নিঃসঙ্গ দুপুর আর বুকের ভেতরের নীরব কষ্টগুলো দেখে না। প্রতিটি উপার্জনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অনেক না-বলা ত্যাগ।
তাই প্রবাসী যখন বলে 'আমি ভালো আছি', তখন সেই কথার ভেতরে অনেক না-বলা গল্প লুকিয়ে থাকে। কারণ সে জানে, ভেঙে পড়লে চলবে না। তার জন্য হয়তো কেউ অপেক্ষা করছে— কোনো মায়ের দোয়া, কোনো বাবার স্বপ্ন, কোনো পরিবারের আশা। সেই অপেক্ষাগুলোই তাকে আবার পরের দিন উঠে দাঁড়াতে শেখায়।
আমি বিশ্বাস করি, প্রবাসীর আসল পরিচয় তার পাসপোর্টে নয়, তার ধৈর্যে। তার সবচেয়ে বড় শক্তি তার উপার্জন নয়, তার হার না মানা মন। তাই ভাগ্য যত কঠিন প্রশ্নই করুক, উত্তর একটাই— আমি থামব না। কারণ প্রবাসীর অভিধানে 'হাল ছেড়ে দেওয়া' বলে কোনো শব্দ নেই; সেখানে লেখা আছে শুধু— ধৈর্য, পরিশ্রম, দোয়া আর একদিন সম্মানের সঙ্গে ঘরে ফেরার স্বপ্ন।
2026-10-31 04:53:19